ভিডিও গ্যালারি
সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭
  •   মুজাহিদ, সাকা চৌধুরীর রিভিউ আবেদন খারিজ: মৃত্যুদন্ড বহাল
  •   জর্ডানে দুই জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
ব্রিটেনে একতার ডাক দিতে হবে
প্রথম আলোতে লিখেছেন ওয়েন জোন্স
Publish Date : 2017-04-21,  Publish Time : 06:53,  View Count: 284    8 months ago

জুনের আগাম সাধারণ নির্বাচনের আগে ব্রিটেনের সমাজ তিক্ততার সঙ্গে বিভাজিত হয়ে পড়েছে, মর্মে অনেক কথা শোনা যাচ্ছে। আবার ব্রেক্সিট গণভোটের কারণে সমাজে ফাটল ধরেনি এমন কথা ভাবাও ভ্রমাত্মক। কিন্তু গত কয়েকটা মাস ইংল্যান্ডের ব্রেক্সিটপন্থী সমাজে ঘোরাঘুরি করতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি, তাতে আমার মনে হয়নি, সাধারণ ভোটাররা একে অপরের ব্যাপারে বিষিয়ে উঠেছেন। যাঁরা ইউনিয়ন ত্যাগের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তাঁরা কিন্তু বিরোধীদের বিলুপ্তপ্রায় শহুরে অভিজাত শ্রেণিভুক্ত অন্তর্ঘাতক মনে করছেন না। আবার বিরোধীরা পক্ষাবলম্বনকারীদের বেকুব অন্ধ মনে করছেন না। তবে প্রতিবেশীদের একে অপরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়ার সাধ কিছু গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলের আছে। আমার সন্দেহ হচ্ছে, মানুষ এ ব্যাপারে বেশ ক্লান্ত হয়ে গেছে। আমি দেখলাম, এই উভয় গোষ্ঠী অতিমাত্রায় ভদ্র আর তারা এতটা ব্যস্ত যে পরস্পরকে ঘৃণা করার মতো সময় নেই।
লরা ও ড্যানের কথাই ধরুন, তাঁদের বয়স ২০-এর কোঠার শুরুর দিকে। তাঁরা কেবল একসঙ্গে থাকতে শুরু করেছেন। লরার কাছে লোকেরা চুলের স্টাইল করতে আসে। তিনি ইউনিয়নে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। লরা মনে করেন, ‘মানুষ অভিবাসীদের কারণে ইউনিয়ন ত্যাগের পক্ষে ভোট দিয়েছে।’ চলাচলের স্বাধীনতা হারানোর কারণে তাঁর মন খারাপ। ওদিকে তাঁর সঙ্গী ড্যান গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি মেরামত করে থাকেন। তিনিও ‘অভিবাসীদের’ কারণে ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। চাপ দিলে তিনি স্বীকার করেন, শরণার্থী নয়, রোমানীয়দের কারণে তিনি ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা খাতে অতিরিক্ত টাকা পাওয়ার জন্য নয়।
কিন্তু তিনি এমন কিছু কথা বলেন, যার মাধ্যমে আমি যাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাঁদের মনোভাবের সারসংক্ষেপ পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ‘ব্যাপারটা এমন নয় যে এটা আমার বিশেষভাবে প্রয়োজন ছিল বা আমি চেয়েছি এটা ঘটুক। আমাদের ভোট দিতে বলা হয়েছিল তাই আমরা ভোট দিয়েছি। আজকের রাজনীতিকেরা এমন যুগে বাস করেন, যখন তাঁদের রাত বা সকালের প্রথম কাজ হচ্ছে, নিশ্বাস বন্ধ করে টুইটারে রটনা খোঁজা। রাজনীতি অধিকাংশ মানুষের মনে যৎসামান্য আবেগ সৃষ্টি করে, যদিও ব্যক্তি ইস্যু তা কিছুটা করে থাকে। আমি চলে আসার পর ব্রেক্সিটবিরোধী লরা ও ব্রেক্সিটপন্থী ড্যান ভালোভাবেই জীবনযাপন করছেন।
অথবা ৫৫ বছর বয়সী আইটি কোম্পানির যোগাযোগ ব্যবস্থাপক লিনের কথাই ধরুন। তাঁর স্বামী ব্রেক্সিটের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন, যেখানে তিনি দিয়েছিলেন ব্রেক্সিটের পক্ষে। তিনি বলেন, আমরা ঠিক পক্ষ বা বিপক্ষ নিয়ে দুই মেরুতে চলে যাইনি। ব্যাপারটা হয়েছে কী, গণতন্ত্রের ঘাটতির কারণে তিনি ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, গণভোট-উত্তরকালে অভিবাসন নিয়ে যে বাগাড়ম্বর করা হচ্ছে তা ‘বিপর্যয়কর’। ‘এটা যদি ইতিবাচক অভিবাসন ও শরণার্থী নীতির ক্ষতি করে, তাহলে তা নিদারুণ করুণ ব্যাপার হবে।’
বৃহত্তর ম্যানচেস্টারের স্টকপোর্টে গণতান্ত্রিক ভিন্নমত পাওয়া যাবে, কিন্তু সেখানে তিক্ত বিভাজনের লক্ষণ তেমন একটা দেখা যাবে না। ৪৩ বছর বয়সী ক্যারেন স্টকপোর্টের একজন গর্বিত শ্রমিক, যাঁর কপালে কাউন্সিলের বাড়ি জোটেনি। টেসকোর এক দোকানে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। তিনি এক আবেগপ্রবণ ব্রেক্সিটবিরোধী, বিদেশি চিকিৎসক ও সেবিকারা চলে গেলে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কীভাবে সেই ধাক্কা সামাল দেবে তা নিয়ে চিন্তিত। তাঁর প্রশ্ন, ‘এটা আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে?’ ব্রেক্সিটপন্থীদের মতো তাঁর মনেও এই উদ্বেগ আছে। উদাহরণস্বরূপ, ৬৪ বছর বয়সী টনি নিজ শহর ও গণতান্ত্রিক বিকল্প নিয়ে যা অনুভব করেন তা থেকে নৈরাশ্যের উপাদান বাদ দেওয়া কঠিন। শহরের কেন্দ্রস্থলের এক ক্ষয়িষ্ণু দোকানকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, ‘সবকিছুর দ্রুত পতন হচ্ছে’। ব্রেক্সিটবিরোধী মা ও মেয়ের সঙ্গে কথা হলো, তাঁরা জানালেন, ব্রেক্সিটপন্থীরা অনেক দিন ধরে যে বঞ্চনা বোধ করছেন, তাঁরাও সেই একই বঞ্চনা বোধ করছেন।
স্টকপোর্টের মতো ছোট শহরের কথা কি মানুষ বেশি বেশি ভুলে যায়? এই প্রশ্নের উত্তরে তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠেন, ‘নিশ্চিতভাবেই’। কিন্তু যত মানুষের সঙ্গে আমি কথা বলেছি, তাঁদের মধ্যে তিক্ততা বা ঘৃণা দেখিনি। বহু জায়গায় তো গেলাম, দেখলাম, ব্রেক্সিটপন্থীদের ইউনিয়ন ত্যাগের কারণ অনেক। নিম্ন মজুরি, প্রত্যাখ্যাত হওয়ার বোধ, গৃহায়ণসংকট, অভিবাসন, গণতন্ত্রের ঘাটতি—এসব কারণে তাঁরা ক্ষমতাকাঠামোকে লাথি মারতে চেয়েছেন। অনেকের কাছে এটা আবেগপ্রবণ অন্তর্বিশ্বাসের ব্যাপার। আবার অন্য অনেকেই কাঁধ ঝাঁকিয়ে ভোট দিয়েছেন।
ফলে জুনের আগাম নির্বাচনে লেবার পার্টির নতুন শুরু হতে পারে। তারা সমাজ অনিষ্টকারী উপাদান ও যেসব চ্যালেঞ্জ দেশটিকে পেছন দিকে টানছে—সেসব উপাদানমুক্ত নতুন ব্রিটেন গড়ার আহ্বান জানাতে পারে। লেবার পার্টির বলা উচিত, আমরা ব্রেক্সিটের পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দিই না কেন, আমরা একতাবদ্ধ। আমাদের বিনিয়োগ করে নতুন শিল্প এবং নিরাপদ ও দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা উচিত। আমরা বিশ্বাস করি, ধনীরা আরও বেশি কর দিতে পারেন। এতে আমাদের জং ধরা সরকারি সেবার উন্নয়নে আরও বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে। ১৯২০-এর দশকের পর শান্তির সময়ে এখনই সবচেয়ে কম বাড়ি নির্মিত হচ্ছে, এটা মারাত্মক জাতীয় ব্যর্থতা। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর আরও অবদান রাখা উচিত, যাতে স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো কম কর দিয়ে বেশি অধিকার ভোগ করতে পারে।
বিভেদের চেয়ে আমাদের ঐক্যের উপলক্ষ অনেক বেশি, তা সে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক যা-ই হোক না কেন। আসুন, রাজনীতিক ও গণমাধ্যম যাতে অন্যকে দানব বানাতে না পারে সেই চেষ্টা করি। নতুন ব্রিটেন গড়ার লক্ষ্যে ব্রেক্সিটপন্থী ও বিরোধীদের একত্র করার ডাক দিতে হবে, এটাই লেবার পার্টির নির্বাচনী প্রচারণার প্রাণভোমরা হওয়া উচিত।
অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন, ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া।
ওয়েন জোন্স: ব্রিটিশ কলামিস্ট।









ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com