ভিডিও গ্যালারি
মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭
  •   মুজাহিদ, সাকা চৌধুরীর রিভিউ আবেদন খারিজ: মৃত্যুদন্ড বহাল
  •   জর্ডানে দুই জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
 রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন
কালেরকন্ঠে রেজানুর রহমানের লেখা
Publish Date : 2017-04-20,  Publish Time : 06:39,  View Count: 137    4 months ago

ফোনের ওপাশে যিনি কথা বলছেন তাঁকে আমি চিনি না। অথচ তিনি বেশ অধিকার নিয়েই কথা বলছেন। ভাই, দেশে এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল আপনার অভিমত কী? এমনিতে লোকটিকে চিনি না তার ওপর রহস্য করে কথা বলছেন। বিরক্তি প্রকাশ করে জানতে চাইলাম, আপনি কে ভাই? কিসের কথা, কোন ঘটনার কথা বলছেন? একটু ক্লিয়ার করেন তো...

ভদ্রলোক নিজের পরিচয় দিয়ে বললেন, ভাই ঘটনা তো একটাই...শাকিব খান আর অপু বিশ্বাস। তারা যে ঘটনাটা ঘটাইল এইটা কি ঠিক হইছে? এ ব্যাপারে কিছুই জানি না এমন ভাব করে তাঁর কাছে জানতে চাইলাম, শাকিব খান আর অপু বিশ্বাস কে ভাই? তাঁরা কী করেছেন? ভদ্রলোক যেন আকাশ থেকে পড়লেন—আপনি কী বলতেছেন ভাই? শাকিব খান আর অপু বিশ্বাসরে চেনেন না? আপনি কি আমার সঙ্গে মশকারা করতেছেন? আমাদের সিনেমার শাকিব-অপুরে চিনেন না?

এবার মনে হলো, আর না জানার-না চেনার ভঙ্গি করা ঠিক হবে না। তাই গভীর আগ্রহ নিয়ে বললাম, হ্যাঁ, হ্যাঁ ভাই চিনতে পেরেছি। কেন, ওরা কী করেছে? ভদ্রলোকই এবার যেন একটু বিরক্ত হলেন। বললেন, তারা কী করেছে আপনি জানেন না? তারা বিবাহ করেছে। তাদের বাচ্চা হইছে। বাচ্চাটা ভাই দেখতে রাজপুত্রের মতো। অথচ বাপে কয় আমি পোলারে নিমু। কিন্তু পোলার মায়েরে নিমু না। ভাই এইটা কেমুন কথা? ফল খাইবেন অথচ গাছের যত্ন করবেন না। এইটা কি ভাই কোনো বিচার হইল? সারা দেশের মানুষ বিষয়টা নিয়া রঙ্গতামাশা করতেছে... এই ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?

একবার ইচ্ছা হলো বিষয়টা নিয়ে ভদ্রলোকের সঙ্গে ফোনে আড্ডা জুড়ে দিই। সারা দেশে বিষয়টি বেশ আলোচিত। বিশেষ করে হঠাৎ করে যেদিন একটি টেলিভিশনের পর্দায় দেশের শীর্ষ চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসকে তাঁর দেবদূতের মতো অপরূপ শিশুপুত্রকে কোলে নিয়ে কাঁদতে দেখা গেল তখনই শুরু হয় হৈচৈ। এর অবশ্য কারণও আছে। অপু বিশ্বাস দেশসেরা চিত্রনায়িকা। একাধিক ছবির শুটিং শেষ না করেই কোনো ঘোষণা ছাড়াই চিত্রজগৎ থেকে উধাও হয়ে গেলেন। মাথায় হাত পড়ল সংশ্লিষ্ট ছবিগুলোর প্রযোজকদের। অপু কই? অপু নাই, অপু নাই। কেউ অপুর খোঁজ জানে না। হঠাৎ অপু হাজির। তা-ও আবার টিভির পর্দায়। ছেলেসন্তানকে কোলে নিয়ে কাঁদছেন আর বলছেন, ছেলের বাবা আর কেউ নন, তিনি আমাদের চিত্রজগতের সুপারস্টার শাকিব খান। অপু শাকিবের কাছে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি চান। দেশের প্রচারমাধ্যম বিশেষ করে বেশ কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে শাকিব-অপুর বিয়ের ঘটনা নিয়ে এক্সক্লুসিভ খবর প্রচারের ক্ষেত্রে এক ধরনের আগুনমুখী লড়াই শুরু হয়ে গেল। এই আগুনে ঘি ঢাললেন স্বয়ং শাকিব খান। তিনি উত্তেজিত, ক্ষুব্ধ কণ্ঠে প্রচারমাধ্যমে বললেন, হ্যাঁ, অপুর সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছে। কিন্তু আমি ছেলেকে নিতে রাজি আছি। অপুকে নয়। ব্যস, বিতর্কটা শুরু হলো এখানেই।

ভদ্রলোক ফোন ছাড়েননি। তাঁকে বুঝিয়ে বললাম, ভাই, আপনি যে বিষয়ে আমার মতামত জানতে চাইছেন, সেটার তো একটা ফয়সালা হয়ে গেছে। অপু আর শাকিব খান সংসার করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। ছেলেসহ তাঁদের হাস্যোজ্জ্বল পারিবারিক ছবি পত্রপত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে। এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে? আসেন, আমরা সবাই মিলে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি, ওঁরা যেন সুখী হয়। ভদ্রলোক ফোন ছেড়ে দেওয়ার সময় আমাকে বেশ কিছু কথা শুনিয়ে দিলেন। ভাই, আমাদের ‘সমাজ’ বলে একটা কথা আছে। সেখানে কিছু রীতিনীতিও আছে। এই রীতিনীতি পরিপূর্ণতা পায় সমাজের বিভিন্ন স্তরের তারকাদের মাধ্যমে। কাজেই আপনি যখন তারকায় পরিণত হবেন তখন আপনার দায় ও দায়িত্ব—দুটিই বেড়ে যাবে। আর দশজন সাধারণ মানুষ আপনাকে অনুসরণ করতে চাইবে। কাজেই তারকাদের উচিত চরম সংকটের মুখেও সংযত থাকা।

আশার কথা, শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের মান-অভিমান দূর হয়েছে। আপাতদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সংকট কেটে গেছে। যদিও সংকট জিইয়ে রাখার জন্য একধরনের হঠকারী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। শাকিব-অপুর পারিবারিক দ্বন্দ্বকে পুঁজি করে একটি মহল আপত্তিকর চিত্রনাট্য তৈরির উদ্যোগও নিয়েছিল। অনেকে অপুর ব্যাপারে শাকিবকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করেছিল এই ভেবে যে পারিবারিক বিরোধের লড়াইটা জমুক। তাহলে মুখরোচক খবরের জন্ম হবে। ‘হাওয়া থেকে পাওয়া’ খবরে সয়লাব হয়ে যাবে আমাদের বিনোদন জগৎ। বিশেষ করে শাকিব খান অপুর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করার ঘোষণা দেওয়ায় এই মহলটি অতিমাত্রায় ব্যস্ত হয়ে উঠেছিল।

স্ত্রীর বিরুদ্ধে শাকিব খান শেষ পর্যন্ত সংবাদ সম্মেলন করেননি। এ ক্ষেত্রে তাঁর আশপাশের কিছু সুন্দর মনের মানুষের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁরাই শাকিব খানকে বুঝিয়েছেন। অতঃপর স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্ব দূর হয়েছে। শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের এই ঘটনা থেকে আমরা বোধকরি কিছু শিক্ষণীয় উপাদান সংগ্রহ করতে পারি। ঘরের কথা পরে জানল কেমনে? এমন একটা কথা প্রচলিত আছে। অপু আর শাকিব ইচ্ছা করলেই অথবা একটু সচেতন থাকলেই তাঁদের ঘরের কথা এভাবে বিতর্কিত হতো না। বিয়ে জীবনের সবচেয়ে পবিত্রতম ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কাজেই এ ব্যাপারে লুকোচুরি কাম্য নয়। আর যদি লুকোচুরি করতেই হয় সে ব্যাপারেও একটা পরিকল্পনা থাকা দরকার। সবচেয়ে বড় কথা, পারিবারিক জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রেই রাগ পরিহার করা জরুরি। অপু বিশ্বাস হঠাৎ করেই শিশুপুত্রকে কোলে নিয়ে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে শাকিব খানের কাছে স্ত্রীর অধিকার চেয়েছেন। শাকিব খানের এ ব্যাপারে উত্তেজিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। অবশ্য এ ব্যাপারে তিনি তাঁর বক্তব্যও পরিষ্কার করেছেন। বলেছেন, একমাত্র সন্তানকে কোলে নিয়ে স্ত্রীকে টেলিভিশন চ্যানেলে কাঁদতে দেখে তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। তাই উল্টাসিধা অনেক কথা বলেছেন। এখানেই আসে নিজেকে সংযত রাখার প্রসঙ্গ। কথায় আছে রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। সেটাই হতে যাচ্ছিল। শাকিব খান উত্তেজনার বশে স্ত্রী হিসেবে অপুকে স্বীকৃতিই দিতে চাননি। বরং অপুর ব্যাপারে অনেক অশোভন কথাও বলেছেন। এটা হয়েছে রাগ সংবরণ করতে না পারার কারণে। অথচ শাকিব খান যদি সেদিন হঠাৎ উত্তেজিত না হয়ে ব্যাপারটা সহজভাবে নিতেন অথবা তাত্ক্ষণিক কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতেন, তাহলে নেতিবাচক চিত্রনাট্যের ডালপালা সৃষ্টি হতো না।

আমরা অনেকেই রাগ সংবরণ করতে পারি না। যার ফলে অনেক নেতিবাচক ঘটনার জন্ম হয়। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক মহলে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন ও সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর মধ্যে আপত্তিকর বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছিল। মহিউদ্দিন চৌধুরী তাঁরই দলের সাধারণ সম্পাদককে বলেছেন খুনি ও অযোগ্য। আবার আ জ ম নাছির উদ্দিন তাঁরই দলের সভাপতিকে বলেছেন ‘পাগল’। এটা তো রাগেরই বহিঃপ্রকাশ। এর ফলে দুই নেতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনে কী ধারণা হয়েছে তা সহজেই অনুমান করা যায়।

আশার কথা, দুই নেতা এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে পরস্পর হাত মিলিয়েছেন। কী পরিবার, কী রাজনীতি—সব ক্ষেত্রেই রাগ পরিহার করা বাঞ্ছনীয়। আবারও বলি, রাগ করে কোনো সিদ্ধান্তে যাবেন না। রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন... এটাই বাস্তবতা।



লেখক : সাংবাদিক, টিভি নাট্যকার









ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com