ভিডিও গ্যালারি
বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭
  •   মুজাহিদ, সাকা চৌধুরীর রিভিউ আবেদন খারিজ: মৃত্যুদন্ড বহাল
  •   জর্ডানে দুই জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
গণপরিবহনে মালিকদের স্বেচ্ছাচার বন্ধ হোক
প্রথম আলো থেকে অরুণ কর্মকারের লেখা
Publish Date : 2017-04-20,  Publish Time : 06:39,  View Count: 112    6 months ago

ঢাকাসহ সারা দেশেই গণপরিবহনে মালিকদের স্বেচ্ছাচার চলে আসছে। যাত্রীরা সব সময়ই কোণঠাসা, প্রতারিত, ক্ষেত্রবিশেষে নির্যাতিত। যাত্রীরা এই গোষ্ঠীর হাতে সব সময়ই জিম্মি। এর প্রতিকার অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় তা হয়নি। কারণ, মালিকেরা সরকারের ভেতরেই প্রভাবের খুঁটি গেড়েছেন। দিনে দিনে অপ্রতিরোধ্য অরাজকতার খাতে পরিণত হয়েছে পরিবহন খাত।

এবার রাজধানীতে অবৈধ ‘সিটিং সার্ভিস’ বন্ধের উদ্যোগে আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু সে আশা মিলিয়ে যেতে সময় লাগেনি। সিদ্ধান্ত কার্যকরের এক দিনের মাথায় মালিকেরা স্বরূপে ফিরেছেন। জিম্মি করেছেন সেই যাত্রীদেরই। খোদ সরকার পিছু হটেছে। ফলে আমাদের সামনে অনেকগুলো প্রশ্ন হাজির হয়েছে।

তার আগে পরিবহনমালিকদের রূপটা একবার দেখে নেওয়া যাক। সাধারণ মানুষের কাছে পরিবহনমালিকদের পরিচিতি সাধারণভাবে স্বেচ্ছাচারী হিসেবে। যাত্রীসেবার ধরন কেমন হবে, বাসগুলো ‘সিটিং, ডাইরেক্ট, কম স্টপেজ’ নাকি ‘লোকাল’ হিসেবে চলবে, এর সবই নির্ধারণ করেছেন তাঁরা। আবার ‘সিটিং’ ও ‘ডাইরেক্ট’ নামের বাসে তাঁদের ইচ্ছামতো ভাড়া দিলেও বছরের পর বছর দাঁড় করিয়ে যাত্রী নিয়েছেন। যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে টিকিট দেবেন কি না, তা পর্যন্ত নির্ধারণ করেছেন মালিকেরা।

জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি পাঁচ টাকা বাড়ানো হলে পরিবহনমালিকেরা ভাড়া বাড়িয়েছেন যাত্রীপ্রতি পাঁচ টাকা। তাতেও যদি ভাড়া ১৪ টাকা হতো, নিয়েছেন ১৫ টাকা। সরকারও নিশ্চুপ থেকে তাতে সায় দিয়ে গেছে। যখন-তখন ধর্মঘট ডেকে, কারণে-অকারণে বাস বন্ধ করে দিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করার উদাহরণও অনেক আছে।

এহেন মালিকেরা হঠাৎ করে কেন এত জনদরদি হয়ে উঠলেন যে তাঁরা বেআইনি সিটিং সার্ভিস চালাবেন না, রাজধানীর সব বাস সার্ভিস লোকাল করে দেবেন, তা ভেবে বিস্মিত হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। এটা কি স্বাভাবিক হতে পারে যে হঠাৎ করেই পরিবহন মহাজনদের মনে পড়ল, পরিবহন আইনে তো ‘সিটিং’ সার্ভিস নেই! যখন তাঁরা সিটিং সার্ভিস চালু করেছিলেন, তখন কি পরিবহন আইন সম্পর্কে তাঁরা জানতেন না? বছরের পর বছর এই সার্ভিস চালানোর কোনো পর্যায়ে কি আইনি-বেআইনির বিষয়টি তাঁদের মনে পড়ল না? হঠাৎ কেন মনে পড়ল? তা কি শুধুই আইনসম্মত যাত্রীসেবা দেওয়ার জন্য? নাকি ‘ডালমে কুছ কালা হ্যায়’?

ধরে নিচ্ছি পরিবহনমালিকেরা যাত্রীসেবার এক অনন্য উদ্দেশ্যেই (যার কোনো অতীত রেকর্ড নেই) নিজেদের চাপিয়ে দেওয়া বেআইনি ‘সিটিং’ সার্ভিস পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাহলে সব মালিক তাঁদের সব বাস রাস্তায় নামাননি কেন? যে কটি নামিয়েছেন, সেগুলোতে আগের সেই বেআইনি ‘সিটিং’ সার্ভিসের ভাড়াই-বা নিয়েছেন কেন? যাত্রীসেবার আইনসম্মত মহৎ উদ্দেশ্যের সঙ্গে এসব অনৈতিক কাজকর্মকে কি তাঁরা সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করেন?

দেশবাসী এত দিনে জেনে গেছেন, পরিবহনমালিকদের অর্থবিত্ত-ক্ষমতা অনেক। তাঁরা এটাও জানেন, এই অর্থবিত্ত এসেছে বেআইনিভাবে; যাত্রীসাধারণের পকেট কেটে। বিত্তবৈভবের হাত ধরে রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তিও অর্জন করেছেন তাঁরা। তাঁদের হাতে আছেন কয়েক লাখ পরিবহনশ্রমিক, যাঁরা মালিকদের ইশারায় যেকোনো কাজ করতে বাধ্য হন। কিন্তু এই পেশিশক্তি আর স্বেচ্ছাচার তো সভ্য সমাজের বিষয় নয়। পরিবহনমালিকেরা এসব করে নিজেদের কী প্রমাণ করতে চান?

আইনের কথা যখন উঠলই, তখন সরকারের কথাও বলতে হয়। কারণ, আইনের প্রয়োগকারী, রক্ষাকর্তা, জনগণের ভালো-মন্দ দেখভালের দায়িত্ব সরকারের। আইনের আওতায়ই সরকার তা করে থাকে। প্রশ্ন হলো, পরিবহনমালিকেরা যখন বেআইনি ‘সিটিং’ সার্ভিস চালু করেন, তখন সরকার কী করেছে? সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরও কি আইনের কথা ভুলে গিয়েছিল? আবার মালিকেরা যখন আইন মানার সন্দেহজনক ঘোষণা দিলেন, তখন দেখি সরকারও আইন বাস্তবায়নে নেমে পড়ল! এসবের অর্থ কী? এ দুয়ের যোগসাজশ কী? সবই কি একসূত্রে গাঁথা?

গত কয়েক বছরে সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক কিছুই করেছে, করছে বলে দাবি করে আসছে। অনেক অগ্রগতি দৃশ্যমানও হয়েছে। শুধু আইনের শাসনই বোধ হয় ব্যতিক্রম। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি নিশ্চয়ই সরকার করতে পারবে। কিন্তু পরিবহন খাতে সরকারের জনবান্ধব উদ্যোগ অনুপস্থিত কেন?

এ অবস্থায় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত মঙ্গলবার যা বললেন, তার সরলার্থ হলো পরিবহনমালিকেরা অনেক শক্তিশালী। তাঁদের সঙ্গে পেরে ওঠা সরকারের কম্ম নয়। বিশেষ বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিয়মশৃঙ্খলা বা আইনকানুন প্রতিষ্ঠায় সরকারের কিছু দুর্বলতা বা ঘাটতি থাকতে পারে। কিন্তু সরকারের দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তি যখন প্রকাশ্যে তা বলেন, তখন সরকারের শাসনক্ষমতা নিয়েই জনমনে প্রশ্ন দেখা দেওয়া স্বাভাবিক।

জ্বালানি তেলের দাম কমানোর প্রসঙ্গেও সরকারের কোনো কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি বলেছেন, তেলের দাম কমালেও পরিবহনের ভাড়া কমানো হবে কি না, সে বিষয়ে সরকার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তাই তেলের দাম না কমানোই ভালো। এসব কথোপকথনেই পরিবহনমালিকদের ক্ষমতা এবং এ ক্ষেত্রে সরকারের অদৃশ্য দুর্বলতা উপলব্ধি করা যায়। পরিবহনমালিকদের অধিকাংশই যে সব সময় সরকারের সঙ্গে থাকেন, তা-ও সবার জানা। সে জন্যই কি সরকার এ ক্ষেত্রে দুর্বল থাকতে পছন্দ করে?

ফলে আবারও প্রশ্ন, সরকার কি জনস্বার্থের প্রতি দুর্বল হতে পারে না? গণপরিবহন কি এখনো মালিকদের ইচ্ছা অনুযায়ীই চলবে? সরকার কি এবারও মালিকদের পিছু পিছু চলবে? তাহলে রাস্তায় নেমে আর্থিক, শারীরিক ও মানসিকভাবে নিগৃহীত সাধারণ মানুষ কি কোনোই প্রতিকার পাবে না?

অরুণ কর্মকার: সাংবাদিক।









ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com