ভিডিও গ্যালারি
বুধবার, ২৮ জুন, ২০১৭
  •   মুজাহিদ, সাকা চৌধুরীর রিভিউ আবেদন খারিজ: মৃত্যুদন্ড বহাল
  •   জর্ডানে দুই জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
দিদিমণি সাঁতার জানেন তো?
সমকাল থেকে জয়া ফারহানার লেখা
Publish Date : 2017-04-20,  Publish Time : 06:39,  View Count: 195    2 months ago

মানবশিশুকে মানবিকভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ দেওয়ার জন্য কত আয়োজন চারপাশে। ঠিক বিপরীত অবস্থা নদীর। নদীর প্রবাহকে প্রাকৃতিকভাবে বইতে দেওয়ার পথে পদে পদে বাধা। শিশুর হাঁটতে শেখার যে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ঠিক তার বিপরীতমুখী প্রক্রিয়ায় যদি শিশুটিকে হাঁটতে শেখানো হয়, তাহলে মানবশিশুর পক্ষে যেমন স্বাভাবিক হাঁটা সম্ভব নয়, নদীর প্রবাহের পক্ষেও সম্ভব নয় উল্টো খাতে বওয়া। হোক অসম্ভব। অসম্ভবকে সম্ভব করার প্রস্তাব দিয়েছেন ক্ষমতাবান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নদী গবেষকদের, নদীর কারিগরি দিক সম্পর্কে যারা জানেন, তাদের লেখা থেকে জেনেছি, বাম প্রবহমান প্রবাহকে ডানপ্রবণ করা ভাটির নদীকে উজানে প্রবাহিত করার মতোই কঠিন। তিস্তা ধরলা ঘাঘটের মতো যেসব নদী বাম দিকে বেঁকে পতিত হয়েছে যমুনায়, যমুনা বাহিনীর সেই জলঢাকা, দুধকুমার, তোরসার পানি তিস্তায় নিতে হলে এই অসম্ভব কাজটিই করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যত সহজে এই কঠিন প্রেসক্রিপশন বাতলেছেন, তাতে পুরনো স্পিরিটের আঁচ পাওয়া যায়। রাম-রাবণের যুদ্ধে মেঘনাদের ছোড়া শক্তিশেলে মারাত্মকভাবে আহত লক্ষ্মণকে বাঁচানোই যখন দায়, তখন যুগাবতার বৈদ্য প্রেসক্রিপশন দিয়েছিলেন, পৃথিবীর এমন কোনো দাওয়াই নেই যা দিয়ে লক্ষ্মণকে বাঁচানো সম্ভব। তবে হ্যাঁ, পরদিন সূর্যোদয়ের আগেই যদি বিশল্যকরণীর পাতার রস ক্ষতস্থানে লাগানো যায়, তবে হয়তো লক্ষ্মণকে বাঁচানো সম্ভব। কিন্তু বিশল্যকরণীর গাছ আছে তো কেবল হিমালয় পর্বতে। পবন নন্দন হনুমান হিমালয় পর্বতে বিশল্যকরণী শনাক্ত করতে না পেরে, গোটা গন্ধমাদন পর্বতটি ঘাড়ে বয়ে এনেছিলেন। তিস্তার জল দেবেন না বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কায়দায় আমাদের পানি নিতে বলেছেন, তা ওই গন্ধমাদন টেনে আনার মতোই। বাংলাদেশের নদী গবেষকরা বলছেন, অভিন্ন অববাহিকার দেশ হিসেবে তিস্তায় যেমন বাংলাদেশের অধিকার রয়েছে, একই অধিকার রয়েছে ধরলা এবং তোরসাতেও। ধরলা ও দুধকুমারের অধিকার ছেড়ে দিতে বলার মমতার পরোক্ষ মনোভাব প্রমাণ করে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশের সমস্যা যথাযথ শনাক্ত করতে তিনি অক্ষম। নয়তো এই গন্ধমাদন প্রেসক্রিপশন পেশ করে তিস্তা তো বটেই, ধরলা ও দুধকুমারসহ আরও তিনটি নদীর পানি থেকে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করার কথা ভাবতেন না।
স্বাধীনতায় আঘাত পেলে মানুষ যেমন কষ্ট পায়, নদীও তেমন। নদীশাসনের মাধ্যমে নদীর প্রবাহকে ভিন্ন খাতে সরিয়ে নেওয়া হলে নদীর কষ্ট হয়। ব্যান্ডেলিং, স্পার, গ্রোয়েন, আরমার, জেটি ও বাফেল ব্যবস্থার মাধ্যমে নদীর প্রবাহকে ভিন্ন খাতে সরিয়ে নদীকে এই কষ্ট দেওয়া হয়। বিষণ্নতায় আক্রান্ত মানুষের যেমন মানবিক প্রবাহ কমে যায়, কোনো কারণে নদীর নতিমাত্রা কমে গেলে নদীরও প্রবাহ কমে যায়। বিষণ্ন মানুষের কাছে জীবনের ভার যেমন দুর্বহ, বিষণ্ন, নদীও তেমন। নদী বিষণ্ন হলে আর নদী নুড়ি বালি কাঁকড় এসব বহন করতে পারে না। নদীর যে মন আছে তা প্রমাণের একেবারে দ্বারপ্রান্তে ছিলেন জগদীশ চন্দ্র বসু। নদীর স্বাভাবিক গতিকে বাধা দিলে নদীও উদ্যম হারায়, ক্ষয়িত পদার্থ সমুদ্রে টেনে নিতে ব্যর্থ হয়। তিস্তার উজান গজলডোবায় বাঁধ দিলে তিস্তার কষ্ট হয়, সিকিম যখন পানি প্রত্যাহার করে জলবিদ্যুৎ বানায় (পড়ূন তিস্তার পাঁজর ভেঙে পাঁজরে সাঁড়াশি চেপে ধরে), তখনও কষ্ট হয়। মানুষ কাব্য করে বলে, এতও জানে তবু নদী কথা বলে না...। আসলে তো নদী কথা বলে। নানাভাবে কষ্টের কথা জানায়। প্রতিবছর তিস্তায় বন্যাও তো হয়। মানুষের কান কোথায় সে কথা, কান্না শোনার? আন্তর্জাতিক আইনকে তোয়াক্কা না করে শক্তি, ক্ষমতা এবং অন্যায় প্রভাব খাটিয়ে ভারত যেভাবে তিস্তার পানির ন্যায্য পাওনা থেকে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করছে তার ক্ষতিকর ফল যদি কেবল ভারত একাই ভোগ করত, তবু ক্ষতি কিছু কম হতো। কিন্তু এ ক্ষতি বহন করবে স্বয়ং তিস্তা। কোনো নদীর বন্যা স্থায়ীভাবে প্রতিরোধ করতে নদীর উজান ও ভাটি অংশের মধ্যে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা দরকার। তিস্তার ক্ষেত্রে সেই সমন্বিত ব্যবস্থাপনা একেবারেই নেই। শিশুর জন্য বাবা বা মা এককভাবে যথেষ্ট নয়। নদীর ক্ষেত্রেও তাই। শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার জন্য যেমন বাবা-মা দু'জনের সমঝোতার সম্পর্ক দরকার, নদীর শরীর ও মনের স্বাস্থ্যের জন্য তেমন উজান ও ভাটি অংশের নূ্যনতম স্বাভাবিক সম্পর্ক দরকার। তিস্তার দুর্ভাগ্য যে, তার উজানি ব্যবস্থাপনা পড়েছে এমনই এক মমতাহীন মায়ের কবলে যে ফি বছর বন্যার মতো বিপত্তি এখন তার জন্য নেমেসিস।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে ভারত বাংলাদেশকে দিয়েছে অভূতপূর্ব সম্মান। সমস্ত কূটনৈতিক প্রটোকলকে থোড়াই কেয়ার করে ফুলের তোড়া হাতে যেভাবে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিয়েছেন সত্যি, বাংলাদেশ সারপ্রাইজড। নিশ্চিতভাবে এখন থেকে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ হবে। সাইবার নিরাপত্তা মহাকাশ ও তথ্যপ্রযুক্তিতে ভারতের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করে বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ হবে। বিদ্যুৎ জ্বালানি শিক্ষা স্বাস্থ্য দক্ষতা অবকাঠামো জনশক্তি উন্নয়ন ই-গভর্ন্যান্স সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। সামরিক খাতে ব্যয় করার জন্য ভারত বাংলাদেশকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে, যা দিয়ে বাংলাদেশ ভারত ছাড়াও রাশিয়া বা অন্য কোনো দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কিনতে পারবে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কিনতে পারবে। ভুটান-নেপাল-ভারত-বাংলাদেশের যৌথ বিনিয়োগে উৎপাদিতব্য জলবিদ্যুৎ ভারতীয় এলাকার ভেতর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করার কথা। ভারত সম্মত না হলে বাংলাদেশ এই বিদ্যুৎ পাবে না। এই বিদ্যুতের জন্যও কি ভারতের সঙ্গে আমাদের কম সনি্নষ্টতা দরকার?
ভারত বড় অর্থনীতির দেশ। দিন দিন অর্থনীতি বড় থেকে বড়তর হচ্ছে। বড় হতে হতে ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বে বড়র মধ্যে অর্থনীতিতে দুই নম্বর হবে ভারত। বড় তরফকে চটিয়ে বা বড় তরফের সঙ্গে ঝগড়া করে কিছুই পাওয়া যাবে না। এ জন্য বড় তরফের সঙ্গে কোনো ঝগড়া নয়। একই কারণে ভারতীয় সংবিধানের ২৫৩ নম্বর ধারাটিও ভুলে যাব, যেখানে রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের চুক্তিতে রাজ্য সরকারের অনুমতি না নিলেও ক্ষতি নেই লেখা আছে। বুঝেছি ঝগড়া করে নয়, ভালোবেসেই সব আদায় করা সম্ভব। প্রশ্ন হলো, আর কীভাবে ভালোবাসলে বাংলাদেশ তিস্তার পানি পাবে? এই প্রশ্ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। তিস্তার পানি একাই নিচ্ছে ভারত। সত্য এই যে, তিস্তায় পানিরও অভাব নেই। পানির ভারে মমতা দিদির দশা আবার বিদ্যে বোঝাই বাবু মশাইয়ের মতো না হয় :
...খানিক বাদে ঝড় উঠেছে ঢেউ উঠেছে ফুলে,/ বাবু দেখেন নৌকাখানি ডুবলো বুঝি দুলে।/ মাঝিরে কন, একী আপদ ! ওরে ও ভাই মাঝি,/ ডুবলো নাকি নৌকো এবার? মরব নাকি আজি?
মাঝি সুধায়, সাঁতার জানো? মাথা নাড়েন বাবু/ মূর্খ মাঝি বলে, মশাই এখন কেন কাবু?/বাঁচলে শেষে আমার কথা হিসেব করো পিছে/তোমার দেখি জীবনখানা ষোলআনাই মিছে।











ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com