ভিডিও গ্যালারি
সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭
  •   মুজাহিদ, সাকা চৌধুরীর রিভিউ আবেদন খারিজ: মৃত্যুদন্ড বহাল
  •   জর্ডানে দুই জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
দেশে হাঁপানি রোগী ও মৃত্যুহার বাড়ছে
আইপোর্ট নিউজ:
Publish Date : 2017-04-17,  Publish Time : 20:01,  View Count: 212    8 months ago

বাংলাদেশের শহরগুলোর পরিবেশ দূষণের ওপর বলতে গেলে বড়সড় একটি প্রবন্ধ লেখার প্রয়োজন হবে। দেশের মোটামুটি সব শহরই ময়লা-আবর্জনা ও ধুলাবালিতে ডুবে আছে। এখন আর এ ধুলাবালি ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা সম্ভবপর হয়ে উঠছে না। পচনশীল ময়লা-আবর্জনার কারণে চারদিকে দুর্গন্ধ ও রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে। ঢাকা পৃথিবীর নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর শহর। ঢাকার পরিবেশ দূষণের কারণে মানুষ দিন দিন বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে। অনেকেই হয়তো জানেন না, ঢাকায় ধূলি দূষণের কারণে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের ক্যান্সার, ব্রংকাইটিস, হাঁপানির মতো রোগ দেখা দিচ্ছে। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ায় ধূলি দূষণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তারা। পরিবেশ দূষণের কারণে বেশি হারে মানুষ হাঁপানি ও নানারকম অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হচ্ছে ও মারা যাচ্ছে। এতে শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বেশি।
আবেগ, ব্যায়াম, অ্যালার্জি বা অন্যান্য উদ্দীপকের প্রভাবে উদ্দীপিত হওয়ার কারণে শ্বাসনালি সংকুচিত হয়ে পড়ে বলে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এ অবস্থাকে ব্রংকিয়াল অ্যাজমা বা হাঁপানি বলে। হাঁপানির আক্রমণ অস্বস্তিকর ও কষ্টদায়ক। বয়স্কদের চেয়ে শিশুরা এবং মহিলাদের চেয়ে পুরুষরা হাঁপানিতে বেশি আক্রান্ত হয়। হাঁপানি রোগের সুষ্ঠু ও পূর্ণ প্রতিকার এখনও আবিষ্কৃত হয়নি বলে এর প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে রোগীকে সদা সতর্ক ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করতে হয়।
নিঃশ্বাস নিলে ফুসফুস বাতাসে ভর্তি হয়ে যায় এবং বুক ফুলে ওঠে। পরবর্তী সময়ে পেশি রিলাক্স করার সঙ্গে সঙ্গে স্থিতিস্থাপকতার কারণে বুক সংকুচিত হয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং নিঃশ্বাস বেরিয়ে যায়। হাঁপানি রোগের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত শ্বাসনালির পেশির সংকোচনের ফলে শ্বাসনালি সংকুচিত হয়ে পড়ে। শ্বাসনালির সংকোচনের ফলে তার আস্তরণ স্ফীত হয়ে পড়ে এবং অভ্যন্তরীণ নিঃসরণ বেড়ে যায়। নিঃসৃত মিউকাস (Mucus) বা শ্লেষা জমে গিয়ে শ্বাসনালিকে আরও সংকুচিত করে দেয়। ফলে হাঁপানির রোগী শ্বাস নেয়ার সময় কষ্ট অনুভব করে, সশব্দে শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে থাকে, শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং রোগীর হয়রানি ও দুর্দশার অন্ত থাকে না।
হাঁপানির প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া না গেলেও শ্বাসনালির অতিমাত্রা সক্রিয়তা এবং সংবেদনশীলতার সঙ্গে হাঁপানির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া, ব্রংকাইটিস এবং সাইস্টিক ফিব্রোসিস (Cystic fibrosis) শ্বাসনালির অত্যধিক সংবেদনশীলতার জন্য দায়ী বৈশিষ্ট্যগুলোর অন্যতম।
ঠাণ্ডা, ধুলাবালি, ধোঁয়া, পোলেনগ্রেইন, গরু, খাসির মাংস, ডিম, দুধ, কলা, ইলিশ মাছ, পুঁটি মাছ, বোয়াল জাতীয় অ্যালার্জিক খাবার, আবেগ, ব্যায়াম, দুশ্চিন্তা হাঁপানির আক্রমণও তীব্রভাবে বৃদ্ধি করে। বিড়ি, সিগারেট, তামাক সেবন হাঁপানি রোগীদের জন্য সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বাতাসের আদ্রতাও হাঁপানির রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। এ কারণে শুষ্ক আবহাওয়াতে হাঁপানির রোগীরা ভালো থাকে।
চিকিৎসকের তীক্ষè অভিজ্ঞতা, আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞান ও চিকিৎসা পদ্ধতির পরিপূর্ণ সদ্ব্যবহার হাঁপানি রোগের চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চিকিৎসা শুরুর আগে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগীর বাস্তব অবস্থার পরিপূর্ণ তথ্য জানা প্রয়োজন। ব্রংকোডাইলেটর বা শ্বাসনালি সম্প্রসারণকারী ওষুধ প্রয়োগের আগে ও পরে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা নির্ণয় করা আবশ্যক। এছাড়া সুষ্ঠু চিকিৎসার জন্য হাঁপানি রোগীর রক্ত, কোন কোন খাদ্যদ্রব্যের প্রতি রোগী অ্যালার্জিক, রক্তের ইমিউনোগ্লোবলিন-ই এবং সম্ভব হলে শ্বাসনালির সংবেদনশীলতাও পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা বাঞ্ছনীয়।
হাঁপানির আক্রমণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের চেয়ে রোগীকে আরও বেশি সচেতন ও সতর্ক থাকতে হয়। অনেক রোগী প্রাথমিক পর্যায়ে হাঁপানির উৎপত্তি এবং পরবর্তী সময়ে প্রতিকার, প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতার কারণে প্রায়শই হতাশ হয়ে পড়ে। কোনো কোনো রোগীর বেলায় এ রোগ ভালো হয়ে গেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ অস্বস্তিকর বিড়ম্বনাপূর্ণ রোগটি আমৃত্যু জীবনসঙ্গী হিসেবে বিরাজ করে। অধিকাংশ হাঁপানি রোগী অজ্ঞতার কারণে, সচেতনতা ও রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যের অভাবে হাঁপানিকে আত্মবিশ্বাস, দৃঢ়তা আর বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয় না। ফলশ্রুতিতে অবস্থার উন্নতি না হয়ে অবনতি হয়।
অ্যালার্জেন একটি বহিরাগত পদাথর্, যা শরীরে প্রবেশ করে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। হাঁপানি রোগে চিকিৎসকরা রোগীকে অ্যালার্জেন বা অ্যালার্জেনসমৃদ্ধ খাবার দাবার পরিহার করতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে পরিবেশগত কারণে সবসময় সতর্ক বা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অ্যালার্জেন বা দূষিত পদার্থ থেকে আমরা নিজেদের রক্ষা করতে পারি না। বাংলাদেশের শহরগুলোয় গাড়ি থেকে নির্গত দূষিত ধোঁয়ার কারণে শুধু হাঁপানি রোগী কেন, সুস্থ মানুষও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধুলাবালি ও গাড়ি থেকে নির্গত দূষিত ধোঁয়ার কারণে মানুষের জীবনীশক্তি কীভাবে তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছে, তা বোঝার সামর্থ্য আমাদের সরকার বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আছে বলে মনে হয় না।
গ্রীষ্মকালে পোলেন গ্রেইনের কারণে অনেকে হাঁপানিতে আক্রান্ত হয়। অনেকে আবার কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে এসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘরবাড়ির ধুলাবালি, তুলা বা ধোঁয়া হাঁপানির আক্রমণ ও তীব্রতা বৃদ্ধিতে বহুলাংশে সাহায্য করে। তাই হাঁপানি রোগীদের লেপ, তোশক, বালিশ, কার্পেট বইপুস্তক বা অন্যান্য আসবাবপত্র ঝাড়ামোছা থেকে উদগত ধুলাবালি ও রান্নাঘরের গ্যাস বা ধোঁয়া থেকে নিজেকে সবসময় রক্ষা করে চলতে হবে। আজকাল অ্যালার্জি প্রতিকারের ভ্যাকসিন পাওয়া যায়।
হাঁপানি রোগীদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হচ্ছে ঠাণ্ডা লাগা। ঠাণ্ডা লাগার কারণে হাঁপানির আক্রমণ ও তীব্রতা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। শীতকালে প্রয়োজনীয় গরম কাপড়-চোপড় পরিধান না করে, ঠাণ্ডা পানি দিয়ে অজু ও গোসল করে, ঠাণ্ডা পানি পান করে, খালি পায়ে চলাফেরা করে হাঁপানি রোগীরা নিজের ক্ষতি নিজেই করে থাকে। হাঁপানি রোগীদের গরম পানি দিয়ে অজু ও দিনের মাঝামাঝি সময়ে গোসল করতে হবে। পানি স্পর্শ করলে হাঁপানির আক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনা থাকলে অজু ও পাক পবিত্র হওয়ার জন্য তাইওমুম করা যেতে পারে। ইসলামে এর বিধান রয়েছে।
এশিয়ানরা কম-বেশি পান খাওয়ায় অভ্যস্ত। হাঁপানি রোগীদের জন্য সুপারি ক্ষতিকর হতে পারে। লন্ডন বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক-গবেষকরা পানে অভ্যস্ত এশিয়ায় হাঁপানি রোগীদের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, সুপারির মূল উপাদান অ্যারিকোলিন নামক অ্যালকালয়েড হাঁপানির আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সুতরাং হাঁপানির রোগীদের সুপারির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। ওষুধের সাহায্যে হাঁপানির চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হল, শ্বাস প্রক্রিয়াকে যথাসম্ভব স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং তা বহাল রাখা।
পৃথিবীর সর্বত্রই হাঁপানি রোগী প্রকৃত, সময়োপযোগী ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমাদের দেশেও হাঁপানি রোগীদের প্রয়োজনের তুলনায় কম চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান করা হয় বলে রোগের তীব্রতা ও জটিলতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়।
হাঁপানি এখনও সম্পূর্ণ প্রতিকারযোগ্য রোগ নয়। তাই হাঁপানি রোগীদের শুধু চিকিৎসাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। হাঁপানি বা হাঁপানির আক্রমণ ও তীব্রতাকে নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপারে সচেষ্ট হতে হবে। সতর্ক এবং নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করলে হাঁপানির আক্রমণ ও তীব্রতাকে আমরা বহুলাংশে কমিয়ে আনতে পারি। তবে যে কোনো কারণেই আক্রমণ হয়ে গেলে, আক্রমণ থেকে নিষ্কৃতি লাভের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে ব্রংকোডাইলেটর বা শ্বাসনালি সম্প্রসারণকারী ওষুধ ব্যবহার করা হয়। শ্বাসনালি সম্প্রসারণকারী ওষুধ হিসেবে সালবিউটামল বিশ্বব্যাপী সফলতার সঙ্গে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সালবিউটামল টেবলেট, পাউডার, সিরাপ ও ইনজেকশন হিসেবে পাওয়া গেলেও দ্রুত কার্যকারিতার জন্য ইনহেলার অত্যন্ত ফলপ্রসূ। সালবিউটামলের ট্যাবলেট, পাউডার, সিরাপ ও ইনজেকশন ডোসেজ ফর্মগুলোর শরীরে শিহরণ বা কম্পন, মাথাধরা ও নার্ভাস টেনশনের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে, যা ইনহেলারের নেই। ইনহেলারের প্রতি ইনহেলেশনে মাত্র ১০০ মাইক্রোগ্রাম (০.১ মি. গ্রা.) ওষুধ থাকে এবং তা নিঃশ্বাসের সঙ্গে সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করে। ইনহেলারের সালবিউটামলের কার্যকারিতা শুধু ফুসফুসে সীমাবদ্ধ থাকে এবং শরীরের অন্যান্য অংশে এ ওষুধের বিস্তার লাভ ঘটে না বলে রোগী উল্লেখিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে মুক্ত থাকে। ট্যাবলেট, পাউডার বা সিরাপ গ্রহণ করলে রোগীকে কম করে হলেও এক থেকে আধ ঘণ্টা কার্যকারিতার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। অথচ ইনহেলার গ্রহণের ফলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ফলাফল পাওয়া যায়। অনেকেই ইনহেলার ব্যবহার করলেও ব্যবহার পদ্ধতি না জানার কারণে ওষুধের পরিপূর্ণ উপকারিতা থেকে বঞ্চিত হয়। ইনহেলারের ব্যবহার পদ্ধতি ওষুধের বাক্সে সংরক্ষিত লিফলেটে ছবি এঁকে পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। বর্ণনা মোতাবেক কয়েকবার ইনহেল করলে ব্যবহার পদ্ধতি সহজেই আয়ত্তে চলে আসবে। চিকিৎসক ও ওষুধ বিক্রেতারা রোগীকে পদ্ধতিটি বুঝিয়ে দিলে রোগীরা ভীষণ উপকৃত হবে। ইনহেলার সম্পর্কে অনেক মানুষ ও অজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। এদের ধারণা, ইনহেলার ব্যবহার করার কারণে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত বা পচে যেতে পারে। এ ধারণার বশবর্তী হয়ে অনেক চিকিৎসক রোগীকে ইনহেলার ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করে। এ ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
হাঁপানির আক্রমণ রোধকল্পে সোডিয়াম ক্রোমাগাইকেট ব্যবহৃত হয়। সব হাঁপানির রোগী সোডিয়াম ক্রোমোগ্লাইকেটে উপকৃত হয় না। কোন ধরনের রোগী এ ওষুধে উপকৃত হবে তা আগে থেকে নিশ্চিতভাবে বলা মুশকিল। একটা কথা মনে রাখতে হবে, সোডিয়াম ক্রোমোগ্লাইকেট হাঁপানির আক্রমণ হয়ে গেলে তা থেকে রোগীকে নিষ্কৃতি দেবে না, হাঁপানি রোধকল্পে শুধু অবদান রাখতে পারে। আক্রমণ থেকে নিষ্কৃতির জন্য সালবিউটামল বা এ জাতীয় ওষুধ নিতে হবে। শ্বাসনালির প্রদাহ বা মিউকাস নিঃসরণ বন্ধ বা কমানোর জন্য স্টেরয়েড প্রদান করা হয়। শ্বাসনালি প্রশস্ত করার কাজে সালবিউটামল জাতীয় ওষুধগুলো কার্যকর না হলে স্টেরয়েড থেরাপি আবশ্যক হয়ে পড়ে। আজকাল বেকলোমেথসেন ডাইপ্রোপিয়নেট, বেটা মেথাসন ভ্যালেরেট, বিউডেসোনাইড বা ফ্লুটিকাসোনের মতো কার্যকর কর্টিকোস্টেরয়েড ইনহেলার বাজারে আসার কারণে হাঁপানি চিকিৎসায় অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। হাঁপানি প্রতিরোধের জন্য সোডিয়াম ক্রোমোগ্লাইকেটের মতো স্টেরয়েড প্রস্তুতিগুলো নিয়মিত গ্রহণ করতে হবে, আক্রমণ হোক বা না হোক স্টেরয়েডের মাত্রা, সেবন বিধি, সেবনকাল ও সতর্কতা রোগীর রোগ নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিকারের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে এ ধরনের চিকিৎসায় চিকিৎসকের পরামর্শ যথাযথভাবে পালন করতে হবে। আজকাল রাস্তাঘাট, দোকানপাটে স্বপ্নে পাওয়া হাঁপানির ওষুধ বিক্রি হতে দেখা যায়। এ তথাকথিত স্বপ্নে পাওয়া ওষুধ ল্যাবরেটরিতে বিশ্লেষণ করে আমরা প্রচুর পরিমাণে স্টেরয়েডের উপস্থিতি দেখতে পেয়েছি। কিছু অসৎ ওষুধ ব্যবসায়ী ক্রেতার অজ্ঞতার সুযোগে বাজার থেকে স্টেরয়েড ট্যাবলেট কিনে পাউডার করে স্বপ্নে প্রাপ্ত ‘অলৌকিক’ ওষুধ বলে চড়া দামে বিক্রি করে প্রচুর মুনাফা করছে। এ ধরনের স্বপ্নে প্রাপ্ত ওষুধ হাঁপানি রোগীদের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে এসব ওষুধ খেয়ে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার শিকার হতে দেখেছি।
তীব্র হাঁপানির আক্রমণে প্রচলিত ওষুধ কার্যকর না হলে রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে বা ক্লিনিকে স্থানান্তর করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রেই হাঁপানির আক্রমণের তীব্রতা ও সঠিক চিকিৎসার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে না পারার কারণে বহু রোগী মৃত্যুবরণ করে। হাঁপানির আক্রমণের তীব্রতা নিরূপণ সহজ ব্যাপার নয় বলে প্রকৃত অবস্থা নির্ণয়ের জন্য রোগীকে হাসপাতালে বা ক্লিনিকে ভর্তি করতে হয়। হাইপোক্সিয়ার কারণে আক্রমণ হলে অক্সিজেন থেরাপি জরুরি হয়ে পড়ে। হাঁপানির তীব্র আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নেবুলাইজার ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকর।
পরিশেষে হাঁপানি রোগীদের জন্য কিছু পরামর্শ উপস্থাপন করছি-
১. হাঁপানির আক্রমণ হয়ে গেলে অবশ্যই ওষুধ গ্রহণ করে আক্রমণ থেকে পরিত্রাণ পেতে হবে। ক্রমাগত ওষুধ ব্যবহার এড়িয়ে গেলে পরবর্তীকালে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
২. উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য মাত্রাতিরিক্ত সালবিউটামল গ্রহণ সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এক্ষেত্রে রোগীকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
৩. গর্ভবতী মায়েদের জন্য ইনহেলার ব্যবহার যুক্তিসঙ্গত। ইনহেলার অল্পমাত্রায় ওষুধ ও কার্যকারিতা শুধু ফুসফুসে সীমাবদ্ধ থাকে বলে গর্ভজাত সন্তানের ক্ষতি হয় না।
৪. হাঁপানির আক্রমণ তীব্র হলে কালক্ষেপণ না করে রোগীকে হাসপাতালে স্থানান্তর করুন।
৫. ব্যায়াম শুরুর আগে ইনহেলারের দুটো ‘পাফ’ নিয়ে ব্যায়াম শুরু করুন।
৬. শিশুরা অসহায়। শিশু রোগীদের প্রতি যত্নবান হন। ঠাণ্ডা, অ্যালার্জেন, ধুলাবালি ও ধোঁয়া থেকে শিশু রোগীদের রক্ষা করুন।
৭. তথাকথিত স্বপ্নে প্রাপ্ত ও অবৈধ ওষুধ ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।
৮. ঘরের বাইরে চলাফেরার সময় মাস্ক পরিধান করুন।
৯. প্রতিকার, প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য হাঁপানি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করুন।

ড. মুনীরউদ্দিন আহমেদ : অধ্যাপক, ফার্মেসি অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়










ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com