ভিডিও গ্যালারি
বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭
  •   মুজাহিদ, সাকা চৌধুরীর রিভিউ আবেদন খারিজ: মৃত্যুদন্ড বহাল
  •   জর্ডানে দুই জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
এই ইসি দিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়
আইপোর্ট নিউজ:
Publish Date : 2017-02-08,  Publish Time : 20:45,  View Count: 314    8 months ago

নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে না বলে দাবি করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। গতকাল মঙ্গলবার রাতে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, এমন একজন বিতর্কিত সাবেক সরকারি কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত কোনো প্রতিষ্ঠান নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। এমন একটি নির্বাচন কমিশন গঠনের পর নির্বাচনকালীন 'নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার' গঠনের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে আমাদের প্রস্তাবের যৌক্তিকতা আরও দৃঢ় হয়েছে। একইসঙ্গে ফখরুল বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠনে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দেরই প্রতিফলন ঘটেছে।



বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে গুলশান কার্যালয়ে গতকাল রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে জোটের নেতাদের পাশে

নিয়ে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। নতুন নির্বাচন কমিশন তারা প্রত্যাখ্যান করেন কি-না_ জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, তাদের বক্তব্য লিখিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। নতুন কমিশনে বিএনপির প্রস্তাবিত কারও নাম রয়েছে কি-না_ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের প্রস্তাবিত সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব তালুকদার রয়েছেন।



তিনি আরও বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। ২০ দলীয় জোটভুক্ত প্রতিটি দলও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। একমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমেই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালনের নীতিতে তারা বিশ্বাসী। দুর্ভাগ্যক্রমে ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সেই প্রত্যাশাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে গভীর জাতীয় সংকট। তাই এবারের নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়টি বিএনপি শুরু থেকেই অসীম গুরুত্ব ও গভীর ঐকান্তিকতার সঙ্গে নিয়েছিল।

মির্জা ফখরুল বলেন, তারা চেয়েছিলেন যাদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে তারা হবেন সৎ, দলনিরপেক্ষ, দক্ষ, সাহসী, প্রজ্ঞাবান, কর্ম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। এ উদ্দেশ্যেই বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোট নেত্রী খালেদা জিয়া গত ১৮ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে ১৩ দফা প্রস্তাব জনগণের সামনে উপস্থাপন করেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের এই যৌক্তিক প্রস্তাবে দেশবাসী উৎসাহিত হয় এবং যথার্থই নিরপেক্ষ, যোগ্য ও সাহসী একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে বলে আশা করে।

তিনি বলেন, সোমবার শেষ মুহূর্তে অত্যন্ত দ্র্রুততার সঙ্গে সার্চ কমিটির প্রস্তাবিত ১০টি নাম থেকে একজনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চারজনকে নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সব মহল থেকে দাবি ছিল সার্চ কমিটির বাছাইকৃত ১০ জনের নাম জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে এবং তাদের জীবনবৃত্তান্ত ও কর্ম অভিজ্ঞতা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হবে। এ পন্থা অনুসরণ করা হলে প্রক্রিয়াটি কিছুটা হলেও স্বচ্ছতা পেত। কিন্তু তা করা হয়নি। তারা নিরাশ ও হতাশ হয়েছেন।



শেষ মুহূর্তে রুদ্ধশ্বাস দ্রুততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনেক সন্দেহের জন্ম দিয়েছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, এ সব সন্দেহের মধ্যেও একটি বড় সন্দেহ হলো কাদের নির্বাচন কমিশনে রাখা হবে সেটি ছিল শাসকমহলের পূর্বপরিকল্পিত। 'রাষ্ট্রপতি যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেই সিদ্ধান্তই আমরা মেনে নেব' এই উক্তি করে প্রধানমন্ত্রী আসলে জাতিকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছেন। সাংবিধানিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী দুটি বিষয় ছাড়া (প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ) অন্য সব বিষয়ে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করতে বাধ্য। সঙ্গত কারণেই আমরা মনে করতে পারি বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠনে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দেরই প্রতিফলন ঘটেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত কে. এম. নুরুল হুদা যুগ্ম সচিব পদে থেকে চাকরিজীবন শেষ করেন। অতিরিক্ত সচিব এবং সচিব হয়েছেন শুধুই কাগজে। প্রকৃতপক্ষে তিনি একদিনের জন্যও অতিরিক্ত সচিব কিংবা সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেননি। ফলে এইসব পদে দায়িত্ব পালনের কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতা তার নেই। অভিজ্ঞ সচিব ছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের এই ঘটনা অভূতপূর্ব। রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়া এমন হওয়ার কথা নয়।



যিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবের্ দািয়ত্ব পেয়েছেন তার সম্পর্কে একটি ইংরেজি দৈনিকের প্রতিবেদনের রিপোর্টের তথ্য তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। ওই রিপোর্টে বিএনপির আমলে চাকরিচ্যুতি এবং পরে আওয়ামী লীগ আমলে পদোন্নতি সম্পর্কিত তথ্য উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, পত্রিকার এই তথ্য থেকেই ধরে নেওয়া যায়, আমাদের দল সম্পর্কে তার মনে ক্ষোভ থাকতে পারে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ শাসনামলে ভুতাপেক্ষ পদোন্নতি পেয়ে তিনি আওয়ামী লীগের প্রতি অনুরাগ পোষণ করতে পারেন। এই দুই বিপরীত পরিস্থিতির মধ্যে তিনি কতটুকু নিরপেক্ষতা অবলম্বন করবেন সে ব্যাপারে জনমনে যৌক্তিক প্রশ্ন রয়েছে। একটি নির্বাচন কমিশনের যাত্রার শুরুতে আস্থার সংকট ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যার জন্ম দিতে পারে।



মির্জা ফখরুল বলেন, সর্বোপরি অভিযোগ আছে, তিনি ১৯৯৬ সালে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক হিসেবে বিএনপি সরকারবিরোধী জনতার মঞ্চের একজন সংগঠক ছিলেন। অথচ কর্মরত সরকারি কর্মকর্তারা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে পারেন না। এমন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া সরকারি চাকরিবিধির লঙ্ঘন এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, অন্যদিকে ২০১০ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত তিনি মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড নামের সরকারি একটি প্রজেক্টের এমডি হিসেবে সরকারের লাভজনক পদে কাজ করেছেন। তারা সরকারি চাকরি শেষে লাভজনক পদে অধিষ্ঠিতদের নির্বাচন কমিশনে অন্তর্ভুক্ত না করার প্রস্তাব করেছিলেন। সাধারণত সরকারের অনুগ্রহভাজনদেরই এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তারা চেয়েছিলেন, কারও কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ কিংবা কারও প্রতি ক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি যেন নির্বাচন কমিশনের মতো নিরপেক্ষ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ না পান। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তাই হয়েছে। এসব কারণে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে কে. এম. নুরুল হুদা সম্পর্কে নেতিবাচক উপলব্ধি সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সার্চ কমিটি এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতির বিবেচনায় না নেওয়া খুবই রহস্যজনক।



বৈঠকে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর), ডা. টিআইএম ফজলে রাব্বী, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান হীরা, বাংলাদেশ ন্যাপের সভাপতি জেবেল রহমান গানি, জামায়াত নেতা মাওলানা আবদুল হালিম, বিএলএর প্রধান সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক, সাম্যবাদী দলের সভাপতি আবু সাঈদ, জামিয়তে উলামা সভাপতি মুফতি মোহাম্মদ নুর হোসেন কাসেমী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ।

সূত্র জানায়, বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচন এ ইসির অধীনে নিরপেক্ষ হওয়া নিয়ে আলোচনা হয়। উপস্থিত প্রত্যেক নেতা তাদের নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরেন। তারা বলেন, এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। আরও কিছু দিন অতিবাহিত হলে তা বোঝা যাবে। এখনই তারা ইসি প্রত্যাখ্যানের পক্ষে নন। সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করে সরকারকে চাপে রাখার বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করার বিষয়ে ২০ দলীয় জোটের নেতারা মতামত দেন। অনেকে বলেন, ইসি যেমনই হোক না কেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিরপেক্ষ না হলে ইসি সুষ্ঠু ও অবাধ হবে না।

সূত্র জানায়, বৈঠকে জোটনেত্রী খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতির কাছে ১৩ দফা প্রস্তাবের পাশাপাশি নির্বাচনকালীন 'সহায়ক সরকারে'র বিষয়টিও উত্থাপন করেছিলেন, তা সরকারকে বাস্তবায়ন করতে চাপ সৃষ্টির মত দেওয়া হয়। এ জন্য বিএনপি ও জোট সম্মিলিতভাবে মাঠে নামার বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়। এ পর্যায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন তাদের যুক্তির পক্ষে সম্মতি দিয়ে সবাইকে মাঠে থাকার আহ্বান জানান। 







ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com