ভিডিও গ্যালারি
বুধবার, ২৮ জুন, ২০১৭
  •   মুজাহিদ, সাকা চৌধুরীর রিভিউ আবেদন খারিজ: মৃত্যুদন্ড বহাল
  •   জর্ডানে দুই জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
সেই ঘুম এক কঠিন রোগ
আইপোর্ট নিউজ:
Publish Date : 2016-12-01,  Publish Time : 20:09,  View Count: 480    7 months ago

আসহাবে কাহাফের কথা মনে আছে। পূর্বযুগে সাতজন যুবক যারা নিজেদের ঈমান রক্ষার জন্য একটি পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাদের ‘আসহাবে কাহাফ’ বা ‘গুহাবাসী যুবক’ বলা হয়। পবিত্র কোরআনে সুরা কাহাফের শুরুর দিকে তাদের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে এবং এই ঘটনা থেকেই সুরাটির নামকরণ করা হয়েছে।

আসহাবে কাহাফের বিশেষ দিক হলো, এই সাত যুবক স্বৈরাচারী, মূর্তিপূজক শাসকের হাত থেকে বাঁচার জন্য নিজ দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় একটি গুহায় আশ্রয় নিয়েছিল। ক্লান্ত হয়ে তারা তখন সেই গুহায় ঘুমিয়ে পড়েন।

দিনের পর আসে রাত। রাতের পর দিন। পার হয়ে গেল বছরের পর বছর। যুবকগুলো শুয়ে আছে। গভীর নিদ্রা তাদের আচ্ছন্ন করে আছে। বাইরের কর্মব্যস্ত জীবনের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই, আকাশে বিজলির গর্জন, বাতাসের প্রচণ্ডতা এবং পৃথিবীর কোনো ঘটনাই তাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারেনি। তারা যখন সেই ঘুম থেকে ওঠে, ততক্ষণে পেরিয়ে গেছে ৩০৯ বছর।

কোরআনের সেই আসহাবে কাহাফের মতো বাস্তবে একজন মানুষের মিল খুঁজে পাওয়া গেল। তিনি যুক্তরাজ্যের চেশায়ারের স্টকপোর্টের অধিবাসী বেথ গোডিয়ার (২২)।

একটানা ছয় মাস ঘুমিয়েছেন বেথ। পাঁচ বছর আগে নভেম্বরে বেথ তার ১৭তম জন্মদিনে ঘুম ঘুম ভাব অনুভব করেন। ঘুমিয়ে পড়েন। সেই ঘুম চলে টানা ছয় মাস। ঘুমের মধ্যেই তিনি হেঁটেছেন, হালকা কিছু খাবার গ্রহণ করেছেন ও পানি পান করেছেন, এমনকি বাথরুমেও গিয়েছেন। যেমনটি আমরা রাতে ঘুমানোর সময় করে থাকি। কিন্তু পুরোপুরি ঘুম ভাঙেনি তার।

তবে সেই সাত যুবকের মতো কোনো আশীর্বাদ প্রাপ্ত হননি বেথ। বরং ভুগছেন এক কঠিন রোগে, যার বৈজ্ঞানিক নাম ‘কেলিন লেভিন সিনড্রোম- কেএলএস’। এটি পরিচিত ‘স্লিপিং বিউটি সিনড্রোম’ বা ‘স্লিপিং ডিসঅর্ডার’ নামেও। ব্রিটেনের প্রায় ১০০ জন তরুণ এ রোগে ভুগছেন। এই রোগের রহস্য উদঘাটনে এখনো গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা।

বেথের মা জেনি জানান, গত পাঁচ বছরে বেথ ৭৫ ভাগ সময়ই ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন। বর্তমানে বেথ এক থেকে দুই মাস ঘুমান। তার জীবন বিছানায় ও সোফায় কাটে। খুব কম সময়ই বেথ ঘর থেকে বের হন। এমনকি দুর্বলতার কারণে হাঁটতে না পারায় চিকিৎসক তাকে হুইলচেয়ার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।

বেথ যখন ঘুমান, কেউই জানে না কখন ঘুম থেকে উঠবেন। তাই তার মা তার সঙ্গে থাকারই চেষ্টা করেন। মেয়ের জন্য চাকরি ছেড়েছেন তিনি। জেনি বলেন, ‘যখন সে ঘুম থেকে ওঠে, সে জানে না সে কোথায় আছে ও ভীষণ উত্তেজিত থাকে।’

জোই লেসেইজনার নামের কেএলএস চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘এক শতাব্দী আগে এই রোগ আবিষ্কৃত হয়েছে। অস্বাভাবিক ঘুম তাদের ব্যক্তিত্বকে পরিবর্তন করে দেয়। তারা অলস হয়ে পড়ে। ঘুমের ঘোরে তারা স্বপ্ন দেখে তারা পৃথিবী থেকে অনেক দূরে। ঘুম থেকে ওঠার পর তারা বুঝতে পারে তারা কিছু হারিয়ে ফেলেছে। তখন তারা উদ্বিগ্ন ও বিষণ্নতায় ভোগে। তরুণ-তরুণীদের এই রোগ তার জীবন থেকে অনেক বছর কেড়ে নেয়। বর্তমানে বেথ বিশেষজ্ঞের অধীনে চিকিৎসাধীন।’









ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com