ভিডিও গ্যালারি
সোমবার, ০১ মে, ২০১৭
  •   মুজাহিদ, সাকা চৌধুরীর রিভিউ আবেদন খারিজ: মৃত্যুদন্ড বহাল
  •   জর্ডানে দুই জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
৯শ' কোটি টাকা তোলার অপেক্ষায় ১৯ কোম্পানি
আইপোর্ট নিউজ:
Publish Date : 2016-11-17,  Publish Time : 20:36,  View Count: 470    5 months ago

শেয়ারবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহে বিভিন্ন খাতের কোম্পানির উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়ছে। কয়েক বছরে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও বাজারে গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাতের কোম্পানির একক প্রাধান্য ছিল। তবে চলতি বছর এ ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য এসেছে। আইপিও আবেদন করা কোম্পানির মধ্যে রয়েছে আইটি, হাসপাতাল, হোটেল, ওষুধ, গার্মেন্টস, অটোমোবাইল, এগ্রো, সেবা, প্রকৌশল ও কাগজ প্রস্তুতকারী কোম্পানি।

শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সংস্থাটির কাছে ১৯ কোম্পানির আইপিও প্রক্রিয়ায় মূলধন সংগ্রহের আবেদন রয়েছে। এরমধ্যে গার্মেন্টস খাতের কোম্পানি মাত্র চারটি। অথচ গত বছর মূলধন সংগ্রহ করা ১৩ কোম্পানির মধ্যে ছয়টিই ছিল গার্মেন্টস খাতের। ২০১৩ ও ২০১৪ সালেও ছিল একই ধারা। এ কারণে কোম্পানির সংখ্যার দিক থেকে বস্ত্র খাত (৪৫টি কোম্পানি) এখন দেশের শেয়ারবাজারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খাত।


মার্চেন্ট ব্যাংক এএফসি ক্যাপিটালের সিইও মাহবুব এইচ মজুমদার মনে করেন, বিভিন্ন খাতের কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসা ইতিবাচক। এতে বাজারের গভীরতা ও বিনিয়োগে বহুমুখিতা বাড়ছে। তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে নতুন কোম্পানি আনতে বর্তমানে ৫৬টি মার্চেন্ট ব্যাংক কাজ করছে। এর কয়েকটি বেশ সক্রিয়। তারা নানা খাতের উদ্যোক্তাদের কাছে যাচ্ছেন। উদ্যোক্তাদের মধ্যেও শেয়ারবাজার নিয়ে যে ভীতি আছে, কিছুটা ধীরে হলেও তা ক্রমে কমছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে আইপিও প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯০০ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহের অপেক্ষায় রয়েছে ১৯ কোম্পানি। বর্তমানে কোম্পানিগুলোর আবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে বিএসইসি। তবে আইপিও অনুমোদনে কিছুটা ধীরনীতি অনুসরণ করছে সংস্থাটি। আবেদনগুলো যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করতে সময় লাগাকেই প্রধান কারণ বলে জানান কমিশন কর্মকর্তারা। বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে আইপিও আইনে ব্যাপক সংশোধন আনা হয়। ওই সময়ও আগের আইনে ৩০টির অধিক কোম্পানির আইপিও অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। এর মধ্যে দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কয়েকটির আবেদন বিবেচনার জন্য চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল। তবে কমিশন সব কোম্পানিকে নতুন আইনে পুনরায় আবেদন করতে বলে। এতে কোম্পানিগুলোর সময় লেগেছে। আবার তা পরীক্ষা করতেও সময় লাগছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংস্থাটির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আইপিও সংখ্যা বাড়লে সেকেন্ডারি শেয়ারবাজারের লেনদেনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বলে অনেকের অভিযোগ আছে। এ বিষয়টিও বিবেচনায় নিচ্ছে কমিশন। এটাও ধীর চলো নীতির কারণ। দৈনিক লেনদেন বাড়লে কমিশন এ নীতি পাল্টাবে বলে জানান তিনি।

কর্মকর্তারা জানান, আইপিওর বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে এখন ১০টি কোম্পানি প্রিমিয়ামসহ মোট ৭১১ কোটি ২৫ লাখ টাকার মূলধন সংগ্রহের আবেদন রয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্ট মূল্য পদ্ধতিতে অর্থাৎ অভিহিত মূল্য ১০ টাকা দরে শেয়ার বিক্রি করে ১৮৮ কোটি টাকার মূলধন তুলতে আবেদন করেছে নয় কোম্পানি।

এরমধ্যে নির্দিষ্ট মূল্য পদ্ধতিতে ইফকো গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন, বিবিএস কেবলস ও ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি প্রত্যেকে ২০ কোটি টাকা করে মূলধন সংগ্রহে আগ্রহী। এছাড়া ওইমেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, অ্যামিউলেট ফার্মাসিউটিক্যালস ও নাহি অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল ১৫ কোটি টাকা করে এবং নূরানী ডাইং অ্যান্ড সোয়েটার ৪৩ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করতে চায়।

অন্যদিকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আমরা নেটওয়ার্ক ২৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা, এসটিএস হোল্ডিংস (অ্যাপোলো হাসপাতাল) ৩০ কোটি টাকা, ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট ৬০ কোটি টাকা, বসুন্ধরা পেপার মিল ২০০ কোটি টাকা, আমান কটন ফাইবার্স ৮০ কোটি টাকা, রানার অটোমোবাইলস ১০০ কোটি টাকা, পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস ৭০ কোটি টাকা, ডেল্টা হসপিটাল ৫০ কোটি টাকা, বেঙ্গল পলি অ্যান্ড পেপার সেক ৫৫ কোটি টাকা এবং এনডেক্স এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ৪০ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহের আবেদন করেছে। নতুন আইন অনুযায়ী এ কোম্পানিগুলো এরই মধ্যে আইপিও রোড-শো করেছে।

চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে মাত্র সাত কোম্পানি আইপিও প্রক্রিয়ায় ৫৮৪ কোটি ৩০ লাখ টাকার মূলধন সংগ্রহ করেছে। এরমধ্যে নির্দিষ্ট মূল্য পদ্ধতিতে ছয় কোম্পানি সংগ্রহ করেছে ১৭৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এগুলো হলো- ফরচুন সুজ, ইয়াকিন পলিমার, ইভিন্স টেক্সটাইলস, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্সুরেন্স, ডরিন পাওয়ার জেনারেশন এবং ড্রাগন সোয়েটার অ্যান্ড স্পিনিং। অবশ্য এ বছর আইপিও প্রক্রিয়ায় অর্থ সংগ্রহ করলেও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্সুরেন্স এবং ড্রাগন সোয়েটার গত বছরই পুরনো আইপিও আইনে মূলধন সংগ্রহের অনুমোদন পেয়েছিল। এ বছর এখন পর্যন্ত বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে দি এক্মি ল্যাবরেটরিজ ৪০৯ কোটি ৬০ লাখ টাকার মূলধন সংগ্রহ করেছে।

এছাড়া বিএসইসি প্যাসিফিক ডেনিম ও শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজকে নির্দিষ্ট মূল্য পদ্ধতিতে মূলধন সংগ্রহের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।








ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com