ভিডিও গ্যালারি
শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭
  •   মুজাহিদ, সাকা চৌধুরীর রিভিউ আবেদন খারিজ: মৃত্যুদন্ড বহাল
  •   জর্ডানে দুই জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
ফটোগ্রাফার গুবরে পোকা!
আইপোর্ট নিউজ:
Publish Date : 2016-05-23,  Publish Time : 14:45,  View Count: 647    2 years ago

গোবর বা অন্য জীবজন্তুর মলের ওপর ঘুরতে ঘুরতে শরীর বৃত্তিক ক্যামেরায় ক্লিক ক্লিক করে চলে গুবরে পোকা। একের পর এক ছবি তোলে আকাশ, মহাকাশের। লেন্সবন্দি করে চাঁদ, সূর্য, গ্রহ-উপগ্রহদের। নিজেদের ক্যামেরায় তোলা সেসব ছবি ছোট্ট মাথার কোষের অ্যালবামে ভরে রাখে গুবরে পোকারা। সেসব ছবি একেবারে পর পর সাজিয়ে রাখে। 

তাদের তোলা সেসব ছবি দিয়েই গুবরে পোকারা বুঝে নিতে পারে, এখন তারা কোথায় রয়েছে, তাদের এখন কোনদিকে যেতে হবে, ঝড়-বৃষ্টি-ভূমিকম্প-জলোচ্ছ্বাস আসছে কি না, কোনদিকে গেলে তারা এড়াতে পারবে এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

ফটোগ্রাফার গুবরে পোকার এই চমকে দেওয়া আচার-আচরণ-অভ্যাস ধরা পড়েছে একেবারে হালের একটি গবেষণায়। সুইডেনের লুন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিদ্যার অধ্যাপক বাসিল এল জুন্দির নেতৃত্বে এক গবেষকদল এই সাড়াজাগানো তথ্যটি জানিয়েছেন সম্প্রতি। 

তাদের গবেষণাপত্রটির নাম ‘হোয়াই ডাং বিটল্স ডান্স অ্যান্ড হোয়াট দে ডু হোয়াইল ডান্সিং’। এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান জার্নাল কারেন্ট বায়োলজির এপ্রিল সংখ্যায়।

জুন্দির সহযোগী গবেষক ডেনমার্কের কোপেনহাগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিদ্যার ভারতীয় অধ্যাপক তরুণ অহলুওয়ালিয়া বলছেন, আমরা এই পরীক্ষাটি চালিয়েছিলাম দক্ষিণ আফ্রিকায়, একটি বিশেষ প্রজাতির গুবরে পোকার ওপর। যার বৈজ্ঞানিক নাম স্ক্যারাবাইয়াস স্যাটিরাস।

আমরা দীর্ঘ দু’দশকের গবেষণায় দেখেছি, ওই প্রজাতির গুবরে পোকারা আমাদের ছায়াপথ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি থেকে বিচ্ছুরিত আলো ধরেই তাদের যাওয়া-আসার পথের দিক নির্ণয় (নেভিগেশান) করে। আর সেটা তখনই করতে পারে, যখন তারা গোবর বা অন্য জীবজন্তুর মলের ওপর নাচানাচি করতে থাকে। 

আমরা দেখেছি, আমাদের এই গ্যালাক্সির আলোয় চাঁদ, সূর্য, গ্রহ-উপগ্রহের ছবি তোলার সময়েই গুবরে পোকারা নাচানাচি করতে শুরু করে। তারা নাচানাচি করলেই ওই সব ছবি তোলার জন্য তাদের শারীরিক ক্যামেরা আপনাআপনিই অন হয়ে যায়।

গবেষকরা পরীক্ষাটা চালিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার একটি বিশেষ এলাকায়। যেখানে ওই বিশেষ প্রজাতির গুবরে পোকার আধিপত্য রয়েছে বহু দিন ধরেই। সেখানে তারা ছাদ বন্ধ একটি গোলাকার জায়গায় কৃত্রিমভাবে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, যেন সেখানে একটি মহাকাশ রয়েছে। 

কৃত্রিম আলোর মাধ্যমে সেখানে তারা চাঁদ, সূর্য বানিয়েছিলেন। গবেষকদের জানা ছিল, জঞ্জাল, আবর্জনার স্তূপে থাকা জীবজন্তুর মলের ছোট ছোট টুকরোগুলোকে একেবারে সোজা সরল রেখা ধরে টেনে নিয়ে যেতে পারে গুবের পোকারা। তা সে পথ যতই এবড়ো থেবড়ো হোক না কেন, মলের ছোট ছোট টুকরোগুলোকে নিয়ে একেবারে সরল রেখা ধরেই নিখুঁতভাবে চলতে পারে গুবরে পোকারা। পরে সেই মলটাই তারা তাদের বাচ্চাকাচ্চাদের খাওয়ায়। ওটাই ওদের প্রধান খাদ্য। 

কিন্তু মলের ছোট টুকরোগুলোকে নিয়ে তাদের নিরাপদে চলার কাজটা খুব সহজ নয়। কারণ তা নিয়ে তাদের মধ্যে খুব কাড়াকাড়ি হয়। কেউ সেটা কেড়ে নিলে, তখন আবার সেই জঞ্জাল-আবর্জনার স্তূপে গিয়ে তাকে মল জোগাড় করতে হয়। তাকে ছোট ছোট টুকরো করতে হয়। যে কাজটা বেশ পরিশ্রমের। তাই যাতে কেউ তাদের কাছ থেকে মলের টুকরোটা কেড়ে নিতে না পারে, তাই গুবরে পোকাদের সেটা নিয়ে খুব তাড়াতাড়ি নিরাপদ জায়াগায় সরে যেতে হয়।

গুবরে পোকার মতো বেশ কয়েকটি পতঙ্গের চোখে রয়েছে একটি বিশেষ ধরনের ফোটোরিসেপ্টার সেল বা আলোক-সংগ্রাহক কোষ। সূর্যের চার ধারে যে বিশেষ পোলারাইজ্ড আলো রয়েছে, এই পতঙ্গদের ফটোরিসেপ্টার কোষগুলো তা দেখতে পায়। কিন্তু আমরা সূর্যের চারপাশে থাকা সেই আলো দেখতে পাই না।

কোপেনহাগেন থেকে সহযোগী ভারতীয় গবেষক তরুণ অহলুওয়ালিয়ার দাবি, এটাই তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। তারা অবাক হয়ে গিয়েছিলেন, যে রাতে আকাশে চাঁদ থাকে না, সেই ঘুটঘুটে অন্ধকার অমাবস্যার রাতেও কীভাবে ঠিকঠাক পথ চিনে মল নিয়ে সরল রেখা ধরে দ্রুত এগিয়ে চলে গুবরে পোকারা। 

গবেষণায় দেখা গেছে, কোন পথ ধরে তারা যাবে, তা আগেই ঠিক করে রেখেছিল গুবরে পোকারা। সূর্যের আলো থাকার সময়েই তারা তাদের ক্যামেরায় ছবি তুলে নিয়েছিল মহাকাশের। আর সেসব ছবি তারা তাদের ছোট্ট মগজের অ্যালবামে নিখুঁতভাবে জমিয়ে রাখে। তাই অমাবস্যার রাতেও তারা সেই জমানো ছবি ভাঙিয়েই খাই ঠিকঠাক পথ চিনে এগিয়ে যেতে পারছে একেবারে সরল রেখা ধরেই।







ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com