Tuesday, 22 October, 2019, 12:27 AM
Home বিবিধ
মি-টু ভিলেন যখন বাবা
জেসমিন চৌধুরী
Published : Thursday, 22 November, 2018 at 1:20 PM, Count : 0

‘আমিও মি-টু বলতে চাই, কিন্তু কখনোই পারব না, কারণ তিনি আমার নিজের বাবা’। ফেসবুক ইনবক্সে একটা মেয়ের কাছ থেকে এ ধরনের বার্তা পাওয়ার পর আমার ঘড়ির কাঁটা থেমে যায়, সময় থমকে যায়, আমি চমকে যাই। আমরা জানি এসব হয়, পত্রিকায় বাবার দ্বারা মেয়ের ধর্ষিত হওয়ার কথাও পড়ি। কিন্তু বাবার হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার একটা মেয়ের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা একটা অন্যরকম ব্যাপার। তার দলিত মথিত আবেগের আর্তনাদ যে কাউকে চমকে দেবে বৈকি।

নিজের বাবার বিরুদ্ধে আমারও অভিযোগের সীমা পরিসীমা নেই। বাবা কখনো আমাকে কোলে বসিয়ে আদর করেননি, হাত ধরে শিশুপার্কে বেড়াতে নিয়ে যাননি। শাসন ছাড়া কিছুই পাইনি বাবার কাছ থেকে। আমার সন্তানদের সঙ্গেও তাদের বাবার সম্পর্ক ভালো নয়, আমার মেয়েটা বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েই মানুষ হয়েছে-এ নিয়েও কষ্টের সীমা নেই আমার। কিন্তু যখন কোনো মেয়ের কাছে নিজের বাবার হাতে যৌন নির্যাতনের গল্প শুনি তখন আমার নিজের এসব কষ্টকে দুঃখবিলাস ছাড়া কিছুই মনে হয় না।

এই মেয়েটির কথাই বলি। তার নিজের বাবা যখন তাকে যৌন নির্যাতন করেন, সেকথা জেনেও তার মা রুখে দাঁড়াতে পারেন না। তিনি প্রতিকারের আশা করে মেয়ের চাচার কাছে ঘটনাটা খুলে বলেন। নিজের ভাইকে প্রতিহত করার কোনো চেষ্টাই করেন না চাচা। বরং এই নির্যাতিত শিশু ও মায়ের অসহায়ত্বের মধ্যে নিজের জন্য সুযোগ দেখতে পান তিনি। যে মেয়ে নিজের বাবার হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয় তার দিকে হাত বাড়ানো সহজ। চাচাও সেটাই করেন। তিনিও সাহায্যের হাত না বাড়িয়ে মেয়েটার বুকের দিকে লালসার হাত বাড়িয়ে দেন। এরপর থেকে বাচ্চা মেয়েটা শুধু বাবাই নয়, চাচার হাতেও নির্যাতিত হতে থাকে। মা নীরবে মেনে নেন সবকিছু।

মেয়েটা এই মানসিক ঝড়ের মধ্যেও বেড়ে ওঠে, শিক্ষিত হয়। ভাইবোনরা সবাই হোস্টেল আছে এমন কলেজে ভর্তি হয় যাতে বাবার থেকে দূরে থাকতে পারে। রুখে দাঁড়াতে অক্ষম সেই মাকে কিন্তু বাবার কাছেই পড়ে থাকতে হয়। অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ পর্যন্ত চারবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেও বিফল হয় মেয়েটা। তারপর সে ভাবে তার ভাইবোনদের কথা, মায়ের কথা যিনি এখনো ওই নির্যাতক বাবার সঙ্গেই বসবাস করছেন। এদের আরও একা ও আরও অসহায় করে দিয়ে সে পৃথিবী থেকে চলে যেতে পারে না। তাকে বেঁচে থাকতে হয়। তারপর আরও অনেক সময় পার হয়ে গেছে। এখন সে নিজেই দুই সন্তানের মা। তারা সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলতে চায় যেন মেয়েটা সমাজ পরিবর্তনে সামান্য হলেও ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিবাদে অক্ষম মায়ের প্রতি বিন্দুমাত্র রাগ নেই মেয়েটার, বরং রয়েছে সহমর্মিতা। মেয়েটার বিভিন্ন টুকরা কথায় তার পরিবারের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং নিজের অন্তর্দহনের কষ্ট ফুটে ওঠে-
‘আমার ভাইকে মানসিক হাসপাতালে যেতে হয়েছে, আমাকেও ওষুধ খেতে হয়েছে।’
‘আমরা অনেক কষ্টে সারভাইভ করছি, আর দিন গুনছি কবে লোকটা মারা যাবে’।
‘আমার বড় বোন বলে, দশজনকে এগুলো শোনানোর চেয়ে নিজেরা সারভাইভ করার চেষ্টা করা ভালো’।
‘লড়াইটা শুধু আমাদের চারজনের। কোথাও আর কেউ নেই’।
‘সবকিছুর জন্য একসময় নিজেকেই দোষী ভাবতাম’।
‘আমার কোনো শৈশব ছিল না’।

‘আপনি পাবলিক ফিগার, তাই ভাবলাম আপনার সঙ্গে শেয়ার করি। এসব কথা কি আমার সঙ্গে কবরেই যাবে? আমি লিখতে পারিনি, আপনি লিখুন। একটু ধাক্কা দিন সমাজকে, এই সাহস সবার থাকে না। একটুখানি ধাক্কা, এতে যদি এই নোংরামির পাহাড়ে একটুখানি ধস নামে’।

‘আমার মা আজ পঁচিশ বছর ধরে ওই লোকটার সঙ্গে এক বিছানায় ঘুমাতে বাধ্য হচ্ছে’।
‘আমার মা খুব সহজ-সরল কিন্তু আমাদের প্রতি খুব ডেডিকেটেড’।

মেয়েটার এলোমেলো সব কথাবার্তার মধ্যে আমি এক করুণ আর্তচিৎকার শুনতে পাই। অনেক অসংগতি লক্ষ করি, প্রশ্নবিদ্ধ করতে ইচ্ছা হয় তাকে। তবু কিছু না বলে তার বার্তাগুলো পড়ি, নিজের ভেতরেও রক্তক্ষরণ টের পাই। তাকে সাহসের কথা বলি। বুঝতে চেষ্টা করি একটা বিক্ষুব্ধ সমুদ্রে সাঁতার কাটা এই পরিবারের বিধ্বস্ত মানুষগুলোকে। ভাবি একজন ডেডিকেটেড মা কেন নিজের সন্তানদের প্রতি এই নির্যাতন সত্ত্বেও মুখ খুলতে পারলেন না? কেন লোকটাকে ছেড়ে যেতে পারলেন না? নিশ্চয়ই তার অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার অভাব ছিল?

মেয়েটা যখন বলে তার মা চাকরিজীবী ছিলেন, অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল ছিলেন, নতুন করে একটা ধাক্কা খাই আমি। রাগে ফুঁসে উঠতে চাই, ঘৃণা করতে চাই এমন মাকে। খুব ছোটবেলায় ঝড়ে নীড় থেকে পড়ে যাওয়া একটা কাকের ছানা হাতে তুলে নিয়েছিলাম আমি। মুহূর্তের মধ্যে মা কাকটা এসে আমার মাথাটা ঠুকরে ফুলিয়ে দিয়েছিল। পশুরাও নিজের বাচ্চার জন্য রুখে দাঁড়ায়, মানুষ কেন পারে না? কারণটা আমি জানি, পশুদের সমাজ থাকে না, তারা শুধুই প্রবৃত্তির দ্বারা তাড়িত হয়ে কাজ করে। কিন্তু মানুষকে অনেক কিছু ভাবতে হয়, মায়ের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি পরাভূত হয় ভাবনার কাছে। তাই হুট করে অক্ষম মায়েদের পশু বলে গালি দেওয়াটা আমার কাছে যুক্তিসংগত মনে হয় না। মানুষ পশুরও অধম, কারণ মানুষের সমাজ নামক অদৃশ্য এক গডফাদার আছে যাকে কাজের সময় খুঁজে পাওয়া যায় না কিন্তু মানুষকে প্রতিটা সিদ্ধান্ত, প্রতিটা পদক্ষেপ নেওয়ার সময় সমাজের কথা ভাবতে হয়।

না, আমি এই মায়ের জন্য কৈফিয়ত দিতে চাই না। উনার প্রতি সহানুভূতির চেয়ে রাগই বেশি কাজ করছে আমার মধ্যে। গত সপ্তাহে একটা লেখায় এমন নীরব ভূমিকাধারী মায়েদের নদীতে ডুবে আত্মহত্যা করার পরামর্শ দিয়েছিলাম আমি। তখনো ভাবছিলাম, একটু বেশি কঠোর হচ্ছি না তো? এখন ভাবছি, আসলেই আমি বেশি কঠোর হয়েছি। ইতোমধ্যে আরও একজন নারী নিজের বাবার হাতে যৌন নির্যাতনের কথা বলেছেন আমাকে। আমরা যারা এই গল্পগুলো পড়ছি তারা রাগে ফুঁসছি, এই অক্ষম মায়েদের ঘৃণা করছি। একটু ভেবে দেখুন, এই মায়েদের নিজেদের মেয়েরা কেন তাদের প্রতি এতটা সহানুভূতিশীল? কেন তারা মায়ের সঙ্গে রাগে ফেটে পড়ছে না? তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই মায়েরা কীসের তৈরি? কেন এরা প্রতিবাদী হতে পারছেন না?

অনেকে বলছেন, ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অভাবে মুখ বুজে সব সহ্য করছেন এসব মা। হোক নির্যাতক তবু তো একজন বাবার ছায়ায় থাকলে ভাত-কাপড়ের নিশ্চয়তাটুকু থাকবে, মাথার ওপরে একটা ছাদ থাকবে, শিক্ষার নিশ্চয়তা থাকবে, বড় হয়ে নিজের জীবন গড়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে বাচ্চারা। এমন একজন বাবাকে ছেড়ে যাওয়াও কড়াই থেকে আগুনে ঝাঁপ দেওয়ার মতো বিপজ্জনক হতে পারে। হয়তো এসব ভাবনা থেকেই রুখে না দাঁড়িয়ে মেনে নিচ্ছেন সন্তানদের শৈশব হারিয়ে যাওয়া, নিজেদের অন্তহীন মর্মযাতনা’।

আমার কিন্তু তা মনে হয় না। আমার ধারণা, অর্থনৈতিক বা ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা থেকে অনেক বেশি প্রবল সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা হারানোর ভয়। আমি নিশ্চিত আমার মতো আপনারাও অনেক সচ্ছল পরিবারকে তাদের সন্তানদের যৌন নির্যাতনের কথা নীরবে চেপে যেতে দেখেছেন। আমি এক অভিজাত পরিবারকে চিনি যাদের মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তারা নীরবে গর্ভপাত করিয়ে ছয় মাসের ফিটাসকে নদীতে ছুড়ে দিয়েছিলেন, দুষ্কৃতকারীর পরিচয় খুঁজে বের করার চেষ্টা পর্যন্ত করেননি।

মেয়েটি প্রতিবন্ধী হলেও মাতৃত্বের সহজাত প্রবৃত্তি থেকে গর্ভপাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কেউ কান দেয়নি তার প্রতিবাদে। কে দায়ী ছিল মেয়েটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পেছনে? মেয়েটির পরিবারের কোনো পুরুষও হয়ে থাকতে পারে। এই মেয়েটির প্রতি ঘটে যাওয়া অন্যায়ের পেছনের সত্যটা কখনোই জানা যাবে না। আমি একজন ঐশ্বর্যশালী নারীকে চিনি যিনি তার পরিবারের মধ্যমণি, এতটাই যে তার স্বামী পর্যন্ত তার অঙ্গুলি হেলনে উঠেন বসেন। নানান সমাজসেবামূলক কাজে নিয়োজিত এই নারীর সুনামের শেষ নেই সমাজে। তার সতেরো বছরের মেয়েকে যৌন নির্যাতন করার চেষ্টা করেছিলেন একজন নিকটাত্মীয়।

সবকিছু জেনেও তিনি এই ব্যাপারে শুধু নীরবই থাকেননি বরং সেই লোককে পোলাও কোরমা বানিয়ে দাওয়াত খাইয়েছিলেন। এই ঘটনা আমার নিজের চোখে দেখা। এরকম ভূরি ভূরি উদাহরণ রয়েছে। অর্থনৈতিক সমস্যা না থাকা সত্ত্বেও কেন তারা নীরব থেকেছেন? সামাজিক লজ্জা এবং অপমানের ভয় ছাড়া আর কী?

ওপরের দুটি ঘটনা হয়তো আমাদের খুব একটা নাড়া দেয় না, এই দুই পরিবারের নীরবতাকে আমরা সহজেই মেনে নিতে পারি কারণ এ ক্ষেত্রে নির্যাতক নিজের বাবা নয়। শুধু একজন মাকে ক্ষমা করা কঠিন হয়ে পড়ে যখন তার সন্তানের যৌন নির্যাতক তার নিজের বাবা। অথচ এ ক্ষেত্রেই কি সামাজিক লজ্জা এবং অপমানের ভয় সবচেয়ে বেশি নয়? নিজ বাবার হাতে নির্যাতিত একটা শিশুর মা কিন্তু দ্বিগুণ নির্যাতিত-তাকে এই নির্যাতনের কথা জেনেও ওই পুরুষের বিছানায় রাত কাটাতে হয়।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চাইল্ড এডোলেসেন্ট অ্যান্ড ফ্যামিলি সাইকিয়াট্রিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদের গবেষণায় উঠে এসেছে, ৭৫ শতাংশ যৌন হয়রানির ঘটনাই ঘটে পরিবারের ঘনিষ্ঠজন, বন্ধু বা আত্মীয়দের হাতে। প্রতি ছয়জন ছেলে শিশুর মধ্যে একজন এবং প্রতি চারজন মেয়ে শিশুর মধ্যে একজন যৌন হয়রানির শিকার হয়ে থাকে। উভয় ক্ষেত্রেই ঘনিষ্ঠ পুরুষরাই প্রধানত যৌন হয়রানিকারীর ভূমিকায়।

বিলেতের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় শিশু যৌন নির্যাতনবিষয়ক একটি আলোচনায় জেনেছিলাম শিশুদের সবচেয়ে বড় নির্যাতক প্রথমত তার নিজ বাবা, দ্বিতীয়ত নিজ ভাই। এগুলো সমীক্ষালব্ধ তথ্য। অথচ আমরা মেনেই নিতে পারি না, নিজ বাবা এবং ভাইয়ের কাছে শিশুরা নির্যাতিত হতে পারে। এই বিষয়ক লেখায় কেউ না কেউ মন্তব্য করেন, ‘খুব কম বাবাই এরকম হয়’। একজন, শুধু একজন বাবাও এরকম হওয়া ‘খুব কম’ নয় আমরা সেটা বুঝি না। কারণ আমাদের হুমায়ূন আহমেদ শিখিয়ে দিয়ে গেছেন ‘বাবারা কখনো খারাপ হয় না’। আমরা উপন্যাসের বাক্যে বিশ্বাস রাখি বেশি, সমীক্ষায় কম।

আমার মতে মানব দেহ এবং যৌনতা নিয়ে খোলামেলা আলাপ-আলোচনার পরিবেশ তৈরি না হলে এসব ঘৃণ্য ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব নয়। আমরা শিশুদের ‘গুড টাচ ব্যাড টাচ’ শিখিয়ে বাইরের মানুষের হাত থেকে রক্ষা করতে পারি, ঘরের মানুষের কাছ থেকে নয়। কিছু বিকৃত যৌন ভাবনা সম্পন্ন মানুষের হাতে ঘরের শিশুরা নির্যাতিত হবেই। এটা পুরোপুরি থামানোর কোনো পদ্ধতি আমাদের জানা নেই। বরং শিশুরা যাতে নির্ভয়ে কারও না কারও সঙ্গে এসব শেয়ার করতে পারে, শিশুর মা যাতে রুখে দাঁড়াতে পারেন সেই পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে আমাদের।

সামাজিক ট্যাবুগুলো ভেঙে ফেলতে পারলে, লজ্জা নামক অপ্রয়োজনীয় অনুভূতির ঊর্ধ্বে উঠতে পারলেই মায়েরা মুখ খোলার সাহস পাবেন। একজন মা যখন বিশ্বাস করতে পারবেন প্রতিকার চাইলে পাওয়া যায় শুধু তখনই তিনি সাহায্য চাইবেন, প্রতিবাদ করবেন, রুখে দাঁড়াবেন। অর্থনৈতিক মুক্তির চেয়ে মানসিক এবং সামাজিক ভয় থেকে মুক্তি অনেক বেশি জরুরি এবং তা অর্জিত হতে পারে শুধু ব্যাপক সচেতনতা থেকে, খোলামেলা আলোচনা থেকে। আমি এর কোনো বিকল্প দেখি না।








« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: [email protected], বার্তা বিভাগ: [email protected]