Saturday, 5 December, 2020, 5:07 PM
Home জাতীয়
বাজেট ও ২৬ লাখ বেকারের কর্মসংস্থান
এম এ ফারুক
Published : Monday, 12 June, 2017 at 6:43 PM, Count : 0
একটি দেশ আগামী এক বছর কীভাবে পরিচালিত হবে তা অনেকটা নির্ভর করে বাজেটের উপর। বাজেট কাঙ্ক্ষিত ও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন হলে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এবং সরকারও প্রশংসা পাবে।

গত ৩০ মে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্ষমতাসীন দলের টানা দুইবারের মেয়াদে সবচেয়ে বড় বা তার ব্যক্তিগত ১১তম বাজেট জাতীয় সংসদে পেশ করেন। এটি দেশের বৃহত্তম বাজেট। বাজেটে মোট আয় ২,৯৩,৪৯৪ কোটি টাকা হলেও এর ঘাটতির পরিমাণ অনেক বেশি। ১ লাখ ১২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। সাধারণত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ঘাটতি বাজেট একটু বেশিই থাকে। অর্থমন্ত্রী এ ঘাটতি পূরণে উত্সগুলো উল্লেখ করলেও বিদেশি সাহায্য আশানুরূপ না পেলে অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়বে কিনা, বাড়লে এর সমাধান কী হবে, তা ব্যাখ্যা করেননি। অর্থমন্ত্রী আলোচনায় ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের ঘোষণা দেন। এতে গরিব মানুষের উপর কর বোঝা হয়ে দাঁড়ালে তা লাঘব করার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী নির্দেশনা দেননি।

যদিও এর আগেও এটি নিয়ে বিভিন্ন মহলের সমালোচনা ছিল। তবে তিনি জনস্বার্থে প্রায় ১০৪৩টি পণ্য ও সেবায় ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব দিয়েছেন। এর মধ্যে কিছু পণ্যের প্রয়োজন না হলেও বেশিরভাগই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও সেবা যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমাবে। অপরদিকে ব্যাংকিং খাতে কর বাড়ানোর ফলে পূর্বে যারা সামান্যের জন্য হলেও ব্যাংকে টাকা জমা রাখার কথা চিন্তা করতো এখন তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কিনা, নগদ অর্থ হাতে রাখার ফলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার সম্ভাবনা আছে কিনা, সেদিকে কম গুরুত্ব দিয়ে এটি রাজস্ব আয়ের একটি অন্যতম উত্স হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এই বাজেটে। আবার ব্যক্তিগত কর মুক্তির সীমা আগের মতো রাখায় পূর্বে যারা একটুর জন্য মুক্তি পেত, বেতন-ভাতা বৃদ্ধির ফলে তাদেরকেও কর দিতে হবে। যদিও এতে প্রকৃত আয় কমবে, তারপরেও ইতিবাচক দিক হচ্ছে রাজস্ব আয় বাড়বে।

খাতভিত্তিক বাজেট হিসেবে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ সবচেয়ে বেশি (৬৫,৪৫০ কোটি) হলেও পূর্বের চেয়ে আনুপাতিক হারে কম। এই বাজেটে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে একটু বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে তা বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা দেওয়া হয়নি। কৃষি, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও বিদ্যুত্ খাতে তুলনামূলক কম বরাদ্দ হওয়ায় এটিকে অনেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণীত বাজেট বলে আখ্যা দিয়েছেন। কেননা এটি পরবর্তী নির্বাচনের আগে শেষ করে যাওয়া বর্তমান সরকারের পূর্ণাঙ্গ বাজেট। অবশ্য অর্থমন্ত্রী এটিকে তার জীবনের শ্রেষ্ঠ বাজেট বলে অভিহিত করলেও অনেকেই এটিকে লোক দেখানো বাজেট হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে সবার মনে একটি সংশয় থেকে যাচ্ছে তা হলো বাজেট বাস্তবায়ন হবে কিনা?

পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে এতটুকু বলা যায় যে, এত বড় বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব কিনা এটি দেখার বিষয়। ২০১৬-১৭ বাজেটে এডিপির পরিমাণ ১,১০,৭০০ কোটি টাকা ধরা হলেও পুরো বছরে সরকার খরচ করতে পেরেছে তার এক-তৃতীয়াংশ। পূর্বের দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ২০১৭-১৮ বাজেটের এডিপি ১,৫৯,০১৩ কোটি টাকা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তার পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া যায়নি। তবে সরকার তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সদিচ্ছার সঙ্গে চেষ্টা করলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে ও দুর্নীতি রোধের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করতে পারবে বলে আমাদের মনে হয়।

আমরা খুশি হই যখন শুনি—দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, জিডিপির মাত্রা বাড়ছে। কিন্তু ব্যথিত হই পরক্ষণে, যখন দেখি অর্থমন্ত্রী দেশের ২৬ লাখ বেকার, যাদের অধিকাংশই তরুণ-তরুণী তাদের কর্মসংস্থানের কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন না। যদি এই ২৬ লাখ বেকার তাদের কর্মসংস্থান পেত, একদিকে তারা আরো বেশি পরিমাণ দ্রব্য ও সেবা উত্পাদন করতো, যা জিডিপি প্রবৃদ্ধির সহায়ক হতো; অন্যদিকে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে এ দেশ মুক্তি পেতো এবং মাথাপিছু আয় বাড়তো। যা কিনা ক্ষমতাসীন দলের অন্যতম রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

লেখক: শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়





« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: [email protected], বার্তা বিভাগ: [email protected]