Tuesday, 7 April, 2020, 2:40 PM
Home বিশ্ব
কোরীয় উপদ্বীপে কি যুদ্ধ হবে?
জিম ওয়ালশ লিখেছেন প্রথম আলোয়
Published : Friday, 28 April, 2017 at 3:10 PM, Update: 30.04.2017 6:23:32 PM, Count : 77
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া পরস্পরকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। ওদিকে জাপানে বোমা থেকে বাঁচার আশ্রয়কেন্দ্র বিক্রি বেড়ে গেছে। দক্ষিণ কোরিয়া আগে এসব দেখলেও স্বাভাবিকভাবেই তারা কিছুটা কিংকর্তব্যবিমূঢ়। দেশটির নাগরিকেরাও উদ্বিগ্ন। এখন কথা হচ্ছে, কোরীয় উপদ্বীপে যুদ্ধ কি লেগে যেতে পারে? ১৯৪৫ সালের পর এই প্রথম কোনো রীতিসম্মত যুদ্ধে কি পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার হতে যাচ্ছে? এটা কি সত্যিই ঘটতে যাচ্ছে?

কিছু খারাপ খবর যেমন আছে, তেমনি ভালো খবরও আছে। কিন্তু এটা বলতে হবে যে ভালো খবর অতটা ভালো নয়, আর খারাপ খবরও অতটা রোমহর্ষক নয়। প্রথমত, ভালো খবরের প্রসঙ্গে আসি। যেকোনো সময়ই হোক, বড় যুদ্ধ ঘটার আশঙ্কা খুবই কম, পারমাণবিক যুদ্ধ তো দূরস্থান। কোরীয় উপদ্বীপে সেই সম্ভাবনা আরও জোরালো হয় এ কারণে যে কোনো বড় শক্তিই সেখানে যুদ্ধ চায় না। উত্তর কোরিয়াও যুদ্ধ চায় না। কারণ, তারা জানে, যুদ্ধ হলে তারা ভালোভাবেই হারবে। অর্থাৎ, যুদ্ধ হলে কিম জং উন সাম্রাজ্যের পতন হবে। তিনি আর যা-ই চান বা না চান, ক্ষমতায় অবশ্যই থাকতে চান।

দক্ষিণ কোরিয়ার অধিকাংশ নাগরিকই বড় ধরনের দ্বন্দ্ব-সংঘাতের ব্যাপারে আগ্রহী নন। যুদ্ধ হলে উত্তর কোরিয়া হারবে, তা ঠিক। কিন্তু এর সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যাবে, যেটি তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র। এমনকি যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ায় বড় ধরনের প্রথাগত বা রাসায়নিক ও পারমাণবিক হামলা না হলেও ব্যাপারটা বিপর্যয়কর হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে শরণার্থীর স্রোত বইতে শুরু করবে, তার অর্থনীতির ভরকেন্দ্র বদলে যাবে। উদ্বিগ্ন ও আত্মরক্ষামূলক চীন নিজ সীমান্তের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। মানে, ব্যাপারটা যদি ভালোয় ভালোয় মিটে যায়, তাহলে এ রকমটা হতে পারে।

চীন যুদ্ধ চায় না, পারমাণবিক শক্তিধর দেশের সঙ্গে তো নয়ই। আর যখন তার এক নম্বর গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ হচ্ছে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও যথেষ্ট পরিমাণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, যার মাধ্যমে তারা গরিব ও নিয়ন্ত্রণ-অপছন্দ জনগোষ্ঠীর মধ্যবিত্ত জীবনযাপনের স্বপ্ন জিইয়ে রাখতে চায়। আর জাপান?

এখানে টোকিওর জন্য কিছু নেই, সম্ভবত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালের জাপানবিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়া ছাড়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও যুদ্ধে জড়াতে চান না, আর যা-ই চান না কেন। যেখানে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার সেনা মোতায়েন আছে। আর যুদ্ধ যদি লাগে, তাহলে সেটা শুরু হতে হতেই তাঁর প্রেসিডেন্সি শেষ হয়ে যাবে। অর্থাৎ, এখন যুদ্ধ লাগার আশঙ্কা নেই, ঠিক আছে? এত দ্রুত নয়।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে কোনো পক্ষ না চাইলেও কখনো কখনো যুদ্ধ লাগতে পারে। নেতারা যৌক্তিক হতে পারেন, এমনকি কিম জং-উনও যৌক্তিক। কিন্তু তার মানে এই নয় যে তাঁরা নিখুঁত। তাঁরা প্রতিপক্ষের প্রতিক্রিয়া ও পরিস্থিতির ভুল পাঠ করতে পারেন। তাঁরা এমন পর্যায়ে চলে যেতে পারেন, যেখানে একমাত্র ‘যৌক্তিক’ কাজ হতে পারে যুদ্ধ করা।

তবে এ রকম অনিচ্ছামূলক বা দুর্ঘটনাবশত যুদ্ধের ঘটনাও বিরল, অন্তত উদ্দেশ্যমূলক যুদ্ধের তুলনায়। কিন্তু তা হতে পারে। কোরীয় উপদ্বীপ এমন এক জায়গা, যেখানে এ রকম যুদ্ধের অনেক শর্তই ইতিমধ্যে হাজির। যোগাযোগ দুর্বল হলে বা প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্য সম্পর্কে না জানা থাকলে যুদ্ধ লেগে যেতে পারে। উভয় পক্ষ বেশি তর্জন-গর্জন বা ছলনা করলেও যুদ্ধ লেগে যেতে পারে। আবার এসব না ঘটলেও সামরিক মতধারা বা বাহিনীর অবস্থানের কারণে ছোট ঘটনাও বড় রূপ নিতে পারে।

বাস্তবতা হলো, উত্তর কোরিয়া পৃথিবীর সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন দেশ, যার সম্পর্কে পৃথিবীবাসীর বোঝাপড়া সবচেয়ে কম। স্নায়ুযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র বারবার সোভিয়েত ইউনিয়নের আকাঙ্ক্ষার ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছে, সোভিয়েতের প্রাণান্ত চেষ্টা সত্ত্বেও। আর ওয়াশিংটন, সিউল, বেইজিং ও টোকিওতে গিয়ে লোকের সঙ্গে কথা বলে আমার মনে এমন প্রত্যয় জন্মেনি যে বিশ্বাস করব, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে অন্যরা তার চেয়ে ভালো কিছু করছে।

অবশ্যই উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে বলতে পারে তারা কী চায়। তারা বলতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই বললেই চলে, তাদের মধ্যে কথাও হয় কদাচিৎ। আর উত্তর কোরিয়া সে কথা বললেও যে যুক্তরাষ্ট্র তা বিশ্বাস করত, তার নিশ্চয়তা নেই। আবার চরম হুমকির সঙ্গে গুরুতর সতর্কবার্তার পার্থক্যই–বা আমরা কীভাবে করব?

দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ ব্যাপারে নতুন মার্কিন প্রশাসনের স্বার্থ আছে। শেষ রাতের টুইট, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তার বৈপরীত্যমূলক মন্তব্য, ছলনামূলক হুমকি—এই পরিপ্রেক্ষিতে পিয়ংইয়ং কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সংকেতের ব্যাখ্যা দেবে? কিম গোত্র কি বুঝতে পারবে, ট্রাম্প সত্যি সত্যিই হুমকি দিচ্ছেন, নাকি তিনি ভান করছেন? এ ক্ষেত্রে চীন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারে। কিন্তু অনুবাদে কিছু জিনিস হারিয়ে যায় বলে একটা কথা আছে, কেউ চিন্তিত হতেই পারেন, বিশেষ করে যখন চীনের নিজের স্বার্থ আছে।

যে জিনিসটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু যার ব্যাপারে মানুষের বোঝাশোনা সবচেয়ে কম, তা হলো মতবাদ ও বাহিনীর অবস্থান। উত্তর কোরিয়া সামরিকভাবে কমজোর অবস্থানে আছে, সেটা তারা বুঝে গেছে। দক্ষিণ কোরীয় ও মার্কিন বাহিনী তাদের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষম। উত্তর কোরিয়ার প্রতিটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর জন্য তারা কঠোর অনুশীলন করেছে। আপনি মার্কিন বা দক্ষিণ কোরীয় হলে ভালো, সেটা শুনতে ভালোই লাগে, যতক্ষণ না আপনি অনুধাবন করতে পারছেন, পিয়ংইয়ংয়ের দৃষ্টিভঙ্গিতে তা কেমন লাগে।

যা হোক, ভালো খবর হলো, কোনো সরকারই যুদ্ধ চায় না। কিন্তু চরম অবস্থায় তারা পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে চলে যেতে পারে, যখন তাদের অন্য উপায় থাকবে না। তবে এটা হওয়ার আশঙ্কা কম। আর খারাপ খবর হচ্ছে, এটা ঘটার আশঙ্কা আছে, যার পরিণতি আমাদের কল্পনার চেয়েও মারাত্মক হতে পারে।

অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন, আল-জাজিরা থেকে নেওয়া।

: এমআইটির সিকিউরিটি স্টাডিজ প্রোগ্রামের সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট।










« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: [email protected], বার্তা বিভাগ: [email protected]