Tuesday, 19 November, 2019, 6:39 AM
Home
নওয়াজ এখনো মুক্ত নন
নাজাম শেঠি লিখেছেন প্রথম আলোয়
Published : Thursday, 27 April, 2017 at 1:35 PM, Count : 28
দুই মাস শুনানির পর পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট পানামা পেপারসে নওয়াজ শরিফের নাম উঠে আসার ব্যাপারে বিভক্ত রায় দিয়েছেন। নওয়াজ শরিফের পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১৯৯০-এর দশকে তারা লন্ডনে বিভিন্ন সম্পত্তি কিনেছিল। আদালতের রায় হচ্ছে, চূড়ান্ত রায়ের আগে অধিকতর তদন্ত দরকার। বেশ বড় এই রায় দিতে অনেক সময় লেগেছে। এতে বোঝা যায়, বেঞ্চ এ ব্যাপারে একমত হতে পারেননি। কয়েকজন বিচারক আইনের চেতনা সমুন্নত রাখতে চেয়েছিলেন, যেখানে অন্যরা সংবিধান থেকে বিচ্যুত হতে চাননি।

রায়ে নওয়াজ শরিফকে পাকিস্তানের সাংসদ ও প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হয়নি। বরং রায়ে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা, আইএসআই, ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো, ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি, স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান, সিকিউরিটিস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অব পাকিস্তানের সমন্বয়ে যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। তারা খতিয়ে দেখবে, নওয়াজ ও তাঁর দুই ছেলে হাসান ও হুসেন লন্ডনে দামি সম্পদ কেনার টাকা কীভাবে উপার্জন করেছেন। অথবা তাঁরা আদৌ তা কিনেছেন কি না। যৌথ কমিটি ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। আশা করা হচ্ছে, পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি জুলাই মাসে এই যৌথ কমিশনের প্রতিবেদন খতিয়ে দেখতে পৃথক বেঞ্চ গঠন করবেন। অন্য কথায়, নওয়াজ কিন্তু এখনো নিশ্চিন্ত নন, যদিও তাঁর দল বিজয়ের ঢোল বাজিয়ে যাচ্ছে।

ওদিকে পিটিআইয়ের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নজর দিচ্ছে। ব্যাপারটা হচ্ছে, দুজন বিচারক কিন্তু নওয়াজকে দোষী হিসেবে রায় দিয়েছেন, যদিও তিনজন বিচারক মনে করেন, এই মর্মে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। কিন্তু এই তিন বিচারক যৌথ তদন্ত চালাকালে নওয়াজকে সরে দাঁড়াতে বলেননি। এতে বোঝা যায়, তাঁরা জানেন, এ রকম আইনি নজির স্থাপনের বিপদটা কী। এর ফলে ভবিষ্যতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু এটা বিরোধী দলকে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার দাবি তুলতে উসকানি দেওয়ার মতো। তারা এ-ও দাবি করতে পারে, যৌথ কমিটির প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী সরে দাঁড়ান। বরং আমার আশা করা উচিত, বিরোধী দলের আগামী দুই মাসের আন্দোলনে এটাই প্রধান দাবি হয়ে উঠবে। কারণ, সব সংস্থার প্রধান প্রধানমন্ত্রীর দ্বারা নিযুক্ত হন। আর ভিন্নমতাবলম্বী বিচারকেরা ইতিমধ্যে কয়েকটি সংস্থার প্রধানদের পেশাগত দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুরু করেছেন।

যৌথ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, এর কাজের শর্ত বা টার্মস অব রেফারেন্স। এর কাজ হচ্ছে, ‘এই মর্মে প্রমাণ জোগাড় করা যে নওয়াজ শরিফ ও তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরা এমন কোনো সম্পদ কিনেছেন, আহরণ করেছেন বা তাঁরা এমন কোনো সম্পদের মালিক বা তাঁদের অন্য কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যাপার আছে, যা তাঁদের জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’ অন্য কথায়, যৌথ কমিটিকে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে হবে: গালফ স্টিল মিলসের জন্ম হলো কী করে? কী কারণে এটি বিক্রি হয়ে গেল? এর দায়-দেনার কী হলো? এর বিক্রির প্রক্রিয়া কোথায় গিয়ে শেষ হলো? এটা কীভাবে জেদ্দা, কাতার ও যুক্তরাজ্যে গেল? সেই ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে হাসান ও হুসেনের বয়স কম ছিল, তখন কি তাঁদের লল্ডনে ফ্ল্যাট কেনার সামর্থ্য ছিল?

আর হঠাৎ করে জাসেম জাবের আল থানির চিঠি আসার ব্যাপারটি কি সত্য না রূপকথা? বেয়ারার সার্টিফিকেট অ্যাপার্টমেন্ট হয়ে গেল কীভাবে? নিয়েলসন এন্টারপ্রাইজ লি. ও হিল মেটাল এস্টাবলিশমেন্টের প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকই বা কারা? নওয়াজের এক ছেলে যে ফ্ল্যাগশিপ ইনভেস্টমেন্ট লি. গঠন করলেন, সেই টাকা কোত্থেকে এল? নওয়াজের আরেক ছেলে যে তাঁকে এত টাকা উপহার দিলেন, সে টাকাই বা কোত্থেকে এল? এ রকম আরও অনেক প্রশ্ন রয়েই যায়।

এই কাজটা কঠিন। এই যৌথ কমিটির সদস্যরা টাকা পাচারের তদন্তে সিদ্ধহস্ত নন, যে টাকা আবার বিদেশে আছে, তা-ও আবার এত অল্প সময়ের মধ্যে। এই রায়ের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হচ্ছে, নওয়াজের প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার অযোগ্যতা নিয়ে বিচারপতি আসিফ সাঈদ খোসার মতামত, যেটি তিনি পাকিস্তানের সংবিধানের ৬২(এফ) ধারা অনুসারে দিয়েছেন। স্মরণ করা যেতে পারে, বিচারপিত খোসা এর আগে ৬২ ও ৬৩ ধারার আলোকে সাংসদকে অযোগ্য ঘোষণার প্রচেষ্টা নিয়ে ভ্রুকুটি করেছেন। কিন্তু এবার তাঁর মতামত খণ্ডন করেন বিচারপতি আয়াজ আফজাল। তিনি বলেছেন, বিচারকেরা ৬২/৬৩ ধারার আলোকে এককভাবে রায় দিতে পারেন না। এ রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হতে হবে।

দুই জ্যেষ্ঠ বিচারকের দ্বারা অভিযুক্ত হওয়ায় নওয়াজ শরিফের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। বোঝা যায়, বিচার বিভাগের ওপর গণদাবির চাপ কতটা। একইভাবে, তাঁর দুই ছেলের পক্ষেও যৌথ কমিটির সামনে হাজির হয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়া সহজ হবে না। কিন্তু তাঁদের সবাইকে যৌথ কমিটির সামনে হাজির হয়ে বিচার বিভাগের বিকল্প হিসেবে এর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হবে। এখন সবকিছুই নির্ভর করছে সাক্ষ্যের সত্যাসত্যের ওপর। একইভাবে যৌথ কমিটির সদস্যদের পেশাদারি সক্ষমতার ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করছে, যদি তাঁরা বিকল্প ও পাল্টা কিছু বের করে আনতে পারেন।

অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন, পাকিস্তানের দ্য ফ্রাইডে টাইমস থেকে নেওয়া।

নাজাম শেঠি: পাকিস্তানি সাংবাদিক।









« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: [email protected], বার্তা বিভাগ: [email protected]