Thursday, 26 November, 2020, 12:21 PM
Home
 হাওরে অকালবন্যা ও জনদুর্দশা
মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার লিখেছেন কালেরকন্ঠে
Published : Tuesday, 25 April, 2017 at 4:56 PM, Count : 71
সুনামগঞ্জে অকালবন্যায় শত শত কোটি টাকার ফসলহানি হয়েছে। হাওরের পানিদূষণ এবং এর ফলে ব্যাপকভাবে হাওরের জীববৈচিত্র্যের মড়কও আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে।

অ্যামোনিয়া গ্যাসক্রিয়া থেকে পানিকে পরিশোধিত করার ব্যবস্থা অবশ্যই মত্স্য বিভাগ, বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের থাকা উচিত। এবং একটি রাষ্ট্রের সামর্থ্য শুধু তার প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন গতির ওপর নির্ভর করে না, বিপর্যয় প্রতিরোধ ও মোকাবেলায় তার সামর্থ্য ও প্রশাসনিক দক্ষতার ওপরও নির্ভর করে।

বিষয়টি এখন আর দুর্যোগপূর্ণ বা দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবির মধ্যে নেই, এটি চরম পরিবেশগত ও জীববৈচিত্র্য বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে মানবিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে। আরো দেরি করলে সম্ভাব্য মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে সরকারের, এমনকি রাষ্ট্রের সক্ষমতার বাইরে চলে যেতে পারে।

চতুর্থত, সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ সাপেক্ষে ভারতকে অবশ্যই তার কারণে সৃষ্ট পরিবেশগত বিপর্যয় মোকাবেলায় ত্বরিত প্রতিকার ও নিরাময় সহায়তা এবং ন্যায্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কিন্তু তার জন্য সরকারকে জরুরি উদ্যোগ নিতে হবে।

সম্ভাব্য মানবিক বিপর্যয় বা স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় স্থানীয় হাসপাতালগুলোর পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকতে হবে এবং বিষাক্ত পানি থেকে বাঁচতে ভূমিতে উভচর প্রাণী সাপের উপদ্রব বাড়তে পারে বিধায় স্থানীয় হাসপাতালগুলোয় পর্যাপ্ত এনটিভেনম ইনজেকশন রাখতে হবে। অন্যদিকে রাজনৈতিক দল ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জনস্বার্থে ব্যাপকভিত্তিক জনসচেতনতামূলক এবং নানা ধরনের সেবা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

প্রত্যাশিত সরকারি সহায়তা হতে পারে জরুরি ত্রাণ, অনুদান, পুনর্বাসন, ভর্তুকীকৃত সরকারি দামে পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ এবং পর্যাপ্ত কৃষি ও সাধারণ ঋণ। জেলার সব কৃষকের ও দরিদ্র মানুষের ভর্তুকীকৃত সরকারি দামে পর্যাপ্ত খাদ্য ক্রয়ের অধিকার বছরব্যাপী নিশ্চিত করতে হবে। পর্যাপ্ত ডিলার প্রয়োজন, যাতে মধ্যবিত্ত লম্বা লাইনে বিব্রত না হয়। বণ্টন নীতিমালা ন্যায্যভিত্তিক হওয়া এবং যথাযথভাবে অনুসৃত হওয়া প্রয়োজন। স্লোগান হোক এতে ‘ন্যায্য বণ্টন ব্যবস্থাপনা চাই’ এবং যেকোনো স্তরে যেকোনো প্রকার ‘দুর্নীতির জন্য জিরো টলারেন্স’।

এনজিও ঋণের কিস্তি মওকুফের বা স্তগিতের জন্য এনজিও নির্বাহী প্রধানদের বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতিবিরোধী মুভমেন্ট অব্যাহত রাখতে হবে। যারা দুর্নীতি করেছে আর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে যাঁরা দুর্নীতিতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছেন বা জবাবদিহি নিশ্চিত না করে দায়িত্বে অবহেলা করেছেন, সবার বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান ও মুভমেন্ট অব্যাহত রাখতে হবে।

বাঁধ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি ও পরিবেশবান্ধব সমাধানের জন্য শিগগিরই পানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে।

অতঃপর চলবে স্থায়ী সমাধানের কৌশলপত্র নিয়ে কৃষক, ছাত্র, যুবক, সংবাদকর্মী, আইনজীবী, কবি-কলাম লেখকদের সম্মিলিত আন্দোলন। অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত মুভমেন্ট চলবে। প্রয়োজন হলে সচিবালয়, মন্ত্রণালয়, ক্যাবিনেট ডিভিশন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সব জায়গায় যাওয়া হবে। সঙ্গে চলবে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও নির্বাচিত প্রবন্ধ।

যে অঞ্চলে দেশের সবচেয়ে বেশি সম্পদ, সেই অঞ্চলই সবচেয়ে অবহেলিত, অনুন্নত ও সমস্যা জর্জরিত। এটা এই অঞ্চলের জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি, বিশেষ করে সংসদ সদস্যদের অদক্ষতা এবং সামাজিক জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতার অভাব, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে কারো কারো ব্যাপকভিত্তিক দুর্নীতিসম্পৃক্ততা ও স্বার্থের সংঘাত (যেমন—নিজ নির্বাচনী এলাকায় নামে-বেনামে ঠিকাদারি করা, হাওর-বিল, পাথর-বালুর দখল) ইত্যাদি বড় কারণ। প্রতিদিনই সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় ও জেলা সদরে ছাত্র, যুবক, আইনজীবী ও সংবাদকর্মীদের দাবি আদায়ের স্লোগান ও প্রতিবাদী মুভমেন্টের প্রতিবেদন দেখছি। যেখানে এমন বিপ্লবী সোনার ছেলেরা আছে, সেখানে এরূপ অন্যায়-অবিচার, সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাটের রাজত্ব আর চলতে পারে না। এটা হোক প্রজন্মের প্রতিশ্রুতি ও দায়বদ্ধতা।

লেখক : শাসনব্যবস্থা ও উন্নয়ন অর্থনীতিবিষয়ক গবেষক

[email protected]








« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: [email protected], বার্তা বিভাগ: [email protected]