Sunday, 27 September, 2020, 11:07 PM
Home
ভাষণটির অনুলিখন নির্ভুল হওয়া উচিত ছিল
Published : Thursday, 20 April, 2017 at 6:39 AM, Count : 53
প্রথমে দুটি ছোট্ট গল্প বলা যাক। কোনো লেখায় যতিচিহ্ন অর্থাৎ দাড়ি, কমা, সেমিকোলন, প্রশ্নবোধক চিহ্ন ইত্যাদির যথাযথ ব্যবহার না হলে কীভাবে অর্থ পাল্টে যায় অথবা বিপত্তি ঘটে, সেই গল্প। গল্প দুটি কেন বলতে হচ্ছে, পরে জানা যাবে।

এক. আমরা সবাই জানি, সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নে স্ট্যালিন ও ট্রটস্কির তাত্ত্বিক বিরোধ চরম বৈরিতায় রূপ নিয়েছিল। এই বৈরিতার জেরে ট্রটস্কিকে শেষ পর্যন্ত মেক্সিকোয় নির্বাসিত জীবনও যাপন করতে হয়েছিল, সেখানেই তিনি আততায়ীর হাতুড়ির আঘাতে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। সেটা পরের কথা। তো স্ট্যালিন দেশের ট্রটস্কিপন্থীদের কাছে নিজেকে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে একদিন এক সমাবেশে পকেট থেকে একটি চিঠি বের করে সবার উদ্দেশে বললেন- এই যে দেখো, ট্রটস্কি তার ভুল বুঝতে পেরেছে। দুই লাইনের একটি চিঠি লিখেছে সে। বলেই তিনি ট্রটস্কির পাঠানো চিঠির লাইন দুটি পড়ে শোনালেন- ‘স্ট্যালিন, আমি ভুল করেছি। তুমিই সঠিক।’ সমাবেশের একজন সন্দেহ পোষণ করল। সে মাথাটা উঁচু করে চিঠিটির দিকে তাকিয়ে দেখল সেখানে লেখা রয়েছে- স্ট্যালিন, আমি ভুল করেছি? তুমিই সঠিক!

দুই. ডাক্তার প্রেসক্রিপশনে লিখেছেন- ওষুধটি খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হাঁটবেন, না হাঁটলে ওষুধে কাজ হবে না। রোগী যথারীতি হেঁটে চলেছেন। রোগ যখন সারে না, ডাক্তারকে গিয়ে বললেন- কই কিছুই তো হচ্ছে না। ডাক্তার বললেন, ওষুধ খাওয়ার পর হেঁটেছিলেন নাকি? রোগীর উত্তর- হ্যাঁ আপনিই তো হাঁটতে বলেছেন। আসলে ডাক্তারের বাক্যটিতে কমাটা যথাস্থানে বসেনি। লিখতে হতো- ওষুধটি খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হাঁটবেন না, হাঁটলে ওষুধে কাজ হবে না।

কয়েকদিন আগে যুগান্তরের সম্পাদকীয় বিভাগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি লেখা আসে ই-মেইলে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অথবা তার পক্ষ থেকে কেউ একজন পাঠিয়েছেন লেখাটি ছাপানোর জন্য। লেখাটি প্রকৃতপক্ষে প্রধানমন্ত্রী চেয়ার-টেবিলে বসে লেখেননি কিংবা কম্পোজ করেননি। বঙ্গবন্ধুর ‘কারাগারের রোজনামচা’ গ্রন্থটির প্রকাশনা উৎসবে যে বক্তৃতা করেছিলেন তিনি, সেটাই ট্রান্সক্রিপ্ট করে পাঠানো হয়েছে। তো প্রধানমন্ত্রীর কোনো লেখা আনএডিটেড ছাপানোই সঙ্গত। তার লেখার কোনো একটি শব্দ বাদ দেয়া কিংবা লেখাটিতে নতুন বা সমার্থক শব্দ যুক্ত করা ঔদ্ধত্যের পর্যায়েই পড়ে। তাই তার কার্যালয়, বিশেষত কার্যালয়ের প্রেস-উইংয়ের দায়িত্ব হল লেখাটিকে নির্ভুলভাবে পুনঃপ্রস্তুত করে তা পাঠানো। আলোচ্য লেখাটির ক্ষেত্রে দায়িত্বটা পালন করা অত্যাবশ্যকীয় ছিল। কারণ এটি ছিল মূলত একটি বক্তৃতা। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই বক্তৃতাটি দেয়ার সময় প্রতিটি শব্দ বানান করে উচ্চারণ করেননি। সুতরাং ট্রান্সক্রিপ্ট করার সময় শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ করা হয়েছে কিনা, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি ছিল। দ্বিতীয় কথা, বক্তৃতা দেয়ার সময় একেবারে প্রমিত ভাষায় শুদ্ধতার সঙ্গে গুছিয়ে বাক্য গঠন সম্ভব হয় না। এমনকি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণেও কিছু ভাষাগত অসংলগ্নতা ছিল। আবার লেখালেখিতে আমরা যেমন যথাস্থানে দাড়ি দিয়ে বাক্য শেষ করি, বক্তৃতার বাক্য কখনও কখনও সেভাবে সমাপ্ত হয় না। সবটা মিলিয়ে কোনো বক্তৃতা ট্রান্সক্রিপ্ট করার সময়, আবার সেটা যদি হয় রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর, তাহলে যিনি ট্রান্সক্রিপ্ট করবেন, তার ঘাড়ে একটা বাড়তি দায়িত্ব বর্তায় বৈকি।

মূল কথায় আসি। গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যক্তির লেখা হয় সহকর্মী আসিফ রশীদ এডিট করেন, না হয় আমি। প্রধানমন্ত্রীর লেখা যেহেতু, আমরা দু’জনই খুব সিরিয়াস হয়ে বসি। ইংরেজিতে বললে- two heads are always better functional than one. কিন্তু এ কী! লেখাটি পড়তে গিয়ে যতই নিচের দিকে নামছি, আসিফ এবং আমি ততই হতবাক হয়ে পড়ছি। প্রথমত, প্রধানমন্ত্রী যেহেতু হেডিং দিয়ে বক্তৃতা শুরু করেননি, লেখাটিতেও কোনো হেডিং নেই! যা হোক, আমরা একটা হেডিং দিয়ে দিলাম। কিন্তু এরপর কী করব? ভুল বানানের একগাদা শব্দ সেখানে। যিনি অনুলিখন করেছেন, তিনি হয়তো ভেবেছেন, পাঠক বুঝলেই তো হল, শুদ্ধ বানানের কী দরকার? অথচ লেখাটি কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর! বাক্য তো বটেই, কখনও কখনও শব্দের মধ্যেও গেঁথে থাকে চিত্রকল্প আর তাই বড় বেশি প্রয়োজন নির্ভুল বানানের। রবীন্দ্রনাথ ‘বৌ’ না লিখে ‘বউ’ লিখেছিলেন বলে এক রসিক বৈয়াকরণিক বলেছিলেন- এ কেমন বউ যে, ঘোমটা নেই! ‘বৌ’ বানানের ঔ-কারের উপরিভাগটাকে তিনি ঘোমটা নির্দেশ করেছিলেন। তারই কথা, ‘ওই’ না লিখে ‘ঐ’ লিখলেই বরং ‘ঐ’-এর মাথাটা দিয়ে দূরবর্তী কোনো স্থান বা বস্তুকে নির্দেশ করা যায়। ‘জ্বলন্ত’ বানান ‘জলন্ত’ লিখলেও বুঝতে অসুবিধা নেই; কিন্তু ‘জ’-এর নিচে ওই ‘ব’টা না দিলে আগুনের ছড়িয়ে যাওয়া প্রজ্বলনটা ঠিক ধরা দেয় না। তেমনি ‘হঠাৎ’ বানান ‘ত’ দিয়ে লিখলেও চলে; কিন্তু ‘ৎ’-এ হঠাৎ পিছলে যাওয়ার যে চিত্রকল্প থাকে, তা পাওয়া যায় না।

লেখাটির অনেক বাক্যই ভুলভাবে গঠিত। আর অনেক ক্ষেত্রেই যতিচিহ্নের ব্যবহার এমন হয়েছে যে, দু’এক জায়গায় উপরের গল্প দুটির মতো অর্থই পাল্টে যায়। লেখাটার ভাষা কতটা প্রাঞ্জল অবস্থায় আমরা পেয়েছি, সেটা উহ্যই থাক। আমি আর আসিফ সিদ্ধান্ত নিই, ঔদ্ধত্য হলে হবে, প্রধানমন্ত্রীর মান বাঁচাতে হবে। দু’জনে মিলে এডিট করি, তবে ছাড়ি লেখাটা।

কর্মব্যস্ত ও কর্মক্লান্ত প্রধানমন্ত্রীর নিশ্চয়ই এত সময় নেই যে, তার একটি লেখা অথবা ভাষণের অনুলিখন কতটা ব্যাকরণসিদ্ধ হয়েছে, তা পুনঃপরীক্ষার জন্য সময় ধার দিতে পারেন। পুনঃপরীক্ষার কাজটি আসলে বর্তায় তার প্রেস উইংয়ের ওপর। অর্থমূল্যেই কেনা হয়েছে প্রেস উইংয়ের সময়। অবশ্য প্রেস উইংয়ের সদস্যরা মনে করতে পারেন, পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগের দায়িত্বটা তাহলে কী? হ্যাঁ দায়িত্বটা আমরা নিতে পারি বটে; কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন ঝুঁকিপূর্ণ। ভাষার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সব পছন্দ-অপছন্দ তো আর আমরা জানি না। দ্বিতীয় কথা, তার লেখা যখন একাধিক পত্রিকায় পাঠানো হয়, সম্পাদকীয় বিভাগ সেটা এডিট করলে একই লেখার তখন দুটো ফ্লেভার বেরোবে। তৃতীয় কথা, প্রধানমন্ত্রীর লেখার অরিজিনালিটি নষ্ট করার আমরা কে?

২.

আমার এই ধারণা মিথ্যা হওয়ার কারণ নেই যে, আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে প্রভাবিত করতে পারা সহজ নয়। কথা সেটা নয়, কথা হচ্ছে তাকে যারা ঘিরে থাকেন, দেশের প্রকৃত চিত্র বুঝতে তারা তাকে কতটা সহায়তা করেন? বিএনপির কোমর ভেঙে গেছে বলে একটা রব তোলা হয়েছিল দেশময়; অথচ কুসিক নির্বাচনে দেখা গেল দলটির মেরুদণ্ড আগের মতোই সোজা আছে, অথবা বলা যায় আগের চেয়ে ঋজু হয়েছে। এই যে বিএনপির জনপ্রিয়তার একটা ক্লিয়ার ইনডিকেশন পাওয়া গেল, এর পেছনের কারণগুলো কি প্রধানমন্ত্রীর কথিত ঘনিষ্ঠজনেরা তাকে বলেন? তারপর ধরুন, হলি আর্টিজানের ঘটনার পর সাধারণ মানুষ আইনশৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে যেভাবে একাত্মবোধ করে জঙ্গিদের প্রতি ঘৃণা ছড়িয়েছিল, সেই সেন্টিমেন্টটা এখন সেভাবে আর দেখা যায় না। ব্যাপারটা এমন হয়েছে যে, নিরপেক্ষ তথ্যসূত্রবঞ্চিত হয়ে শুধু পুলিশের ভার্সন শুনতে শুনতে সাধারণ মানুষ তা অর্ধেক বিশ্বাস করছে, অর্ধেক করছে না। জঙ্গি দমন প্রক্রিয়ার অস্পষ্টতার মতো এমন আরও অনেক ঘটনাই সরকারের সঙ্গে সাধারণ মানুষের বিচ্ছিন্নতা তৈরি করে চলেছে। স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কেন বারংবার বরখাস্ত করা হল, এ প্রশ্নেরও স্বাভাবিক উত্তর খোঁজে মানুষ। সাবমেরিন কেনা প্রসঙ্গে আমার এক অতিপ্রিয় ব্যক্তি আমাকে বলেছেন, সামরিক অস্ত্র বা সরঞ্জামাদি কেনার সময় ‘থ্রেট পারসেপশন’ সবচেয়ে বেশি বিবেচনার দাবি রাখে। তো কোন্ থ্রেট পারসেপশনের ভিত্তিতে কেনা হল সাবমেরিন? তিনি আরও প্রশ্ন রেখেছেন, পৃথিবীর কয়টি দেশ সাবমেরিন শক্তির অধিকারী? সাবমেরিনবঞ্চিত দেশগুলোর ভৌগোলিক সীমানা কি শক্তিশালী কোনো দেশের সঙ্গে মিলে একাকার হয়ে গেছে? আমার ধারণা, এই ঘনিষ্ঠজন বিপুলসংখ্যক মানুষের চিন্তাকেই প্রতিনিধিত্ব করছেন। প্রধানমন্ত্রীকে কি এসব কথা বলা হয়? আরও কথা আছে। কওমী সনদের স্বীকৃতিসহ হেফাজতিদের দাবি-দাওয়া পূরণের কারণে এই রাষ্ট্রের পার্মানেন্ট ড্যামেজ হল কিনা, এ প্রশ্নও নিশ্চয়ই কেউ করেননি প্রধানমন্ত্রীকে।

তাকে ঘিরে থাকেন যারা, তারা হয়তো লেখাটির এ পর্যায়ে এসে আমাকে বিএনপি হিসেবে চিহ্নিত করে ফেলেছেন। কেউ এমনও ভাবতে পারেন, ডিএনএ টেস্ট করলে এই লোকের দেহে জামায়াতও পাওয়া যেতে পারে। খুব জোরের সঙ্গেই বলা যায়, এই অব্যাখ্যেয় মনস্তত্ত্বই আওয়ামী লীগের ক্ষতি করছে বেশি। কেউ যদি বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বই দরকার; কিন্তু ক্রসফায়ারগুলো ঠিক হচ্ছে না- আওয়ামী লীগাররা তাকে আপন ভাববে না। তাকে বলতে হবে- শেখ হাসিনা যা যা করেছেন, যা যা করছেন এবং যা যা করবেন- সব ঠিক। নেত্রীর ব্যাপারে এমন সর্বাত্মকবাদীরা তার দুর্দিনেও কি এমনিভাবেই তাকে ব্ল্যাংক চেক দিয়ে যাবেন? নাকি দিয়েছেন কখনও আগে? শেখ হাসিনা সন্দেহাতীতভাবে মিসেস জিয়ার চেয়ে যোগ্য নেত্রী; কিন্তু তার মানে কি এই যে, তার রাজনীতিতে কোনোই গ্যাপ নেই?

ধারণা নয়, এটাই সত্য যে, প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে থাকা বিশিষ্টজনেরা তিনটি বড় কারণে তার সামনে সত্য আড়াল করে থাকেন। প্রথমটি ভয়জনিত। একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল। শোনা কথা, তবে এমনভাবে শুনেছি যে, বিশ্বাস করেছি। দেশের এক অতি নামকরা ব্যক্তি একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তো নিয়োগের আগে মনোনীতের সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের অনাপত্তি (no objection) দরকার। সাইফুর রহমান তাকে নিয়ে গেছেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে। ভদ্রলোক যখন কথা বলছিলেন, তার হাঁটু কাঁপছিল। জিয়া জিজ্ঞেস করলেন- এই যে সাহেব, আপনার হাঁটু কাঁপছে কেন? সাইফুর রহমান জিয়ার প্রশ্ন কেড়ে নিয়ে উত্তর দিয়েছিলেন- স্যার, এটা ওনার ফিজিক্যাল ডিজঅর্ডার। তার হাঁটু সবসময়ই কাঁপে!

হয়তো সবাই ভয়ে থাকেন, কখন কী বলে আবার চাকরিটা হারাই। নিজে যত শক্তিশালীই হই, সাধারণ মানুষকে যত তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যই করি না কেন, প্রধান নির্বাহী বলে কথা! বাদ দিয়ে দিলে হয়তো ঘাস হয়ে যাব, বড়জোর ড. কামাল, কাদের সিদ্দিকী অথবা মান্না। শক্তিহীন, নির্জীব। কে পুছবে তখন? সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে না থাকলে এদেশে কেউ পুছে নাকি কোনো পণ্ডিতকে?

দ্বিতীয় কারণটি এমন যে, দু’-চার মিনিট যে সময় পাই, নিজের কথা বলতেই তো শেষ হয়ে যায়, রাষ্ট্র ঢুকবে কীভাবে? এদেশে রাষ্ট্রের চেয়ে ব্যক্তি বড়, রাষ্ট্রচিন্তার চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থ মহৎ! আবার ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে স্বার্থের দ্বন্দ্ব। এত স্বার্থ, এত দ্বন্দ্ব মাথায় নিয়ে ঘুরলে দল ও সরকার নিয়ে পাবলিক কী ভাবছে- কোন্ কাজে আসে সেই ভাবনা?

তৃতীয়টি, প্রধানমন্ত্রীকে অকারণ ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তোলার চেষ্টাটা সার্থক হচ্ছে কিনা, তা ভাবতে ভাবতেই অ্যাপয়ন্টমেন্টের সময় শেষ হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই এতটা স্তূতি পছন্দ করেন না। কয়েকদিন আগে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয় কী কারণে যে তার এক লেখায় প্রধানমন্ত্রীর এত জয়গান গাইলেন বুঝে উঠতে পারিনি, কারণ প্রধানমন্ত্রীকে যতই গুড হিউমারে রাখুন না কেন তিনি, তার তো আচার্য হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তো উপাচার্যের লেখাটা এডিট করা শেষ হল কিনা আসিফ জানতে চাইলেন। বললাম, হ্যাঁ শেষ। এত তেল যে, দুই ব্যারেল ফেলে দিতে হল। মানে দুটি প্যারা ছেঁটে দিয়েছি।

২১ ফেব্রুয়ারি যখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেল, এক বিশিষ্টজন প্রধানমন্ত্রীকে ‘ভাষাকন্যা’ বিশেষণ উপহার দিলেন। তখন এক কলামে লিখেছিলাম- রূপকথায় মৎস্যকন্যা পড়েছি। এর মানে অর্ধেক মৎস্য, অর্ধেক মানবী। ভাষাকন্যা মানে কী? অর্ধেক ভাষা, অর্ধেক কন্যা? এরশাদের মায়ের মৃত্যুর পর যখন তার চেয়ে কাজী জাফরের কান্নার রোল উঠেছিল বেশি, এরশাদ নাকি তাকে (কাজী জাফর তখন প্রধানমন্ত্রী) বলেছিলেন - জাফর সাহেব, মা কি আমার মরেছে, না আপনার?

উপরে যে তিনটি কারণের কথা বলেছি, তার প্রতিটিই ব্যক্তিত্ব ও মানবমর্যাদার সঙ্গে যায় না। অবশ্য তাতে কার কী আসে যায়! এবার আমরা শেষ করব। রাষ্ট্রপ্রধান কিংবা সরকারপ্রধান হওয়ার এক বড় বিপত্তি এই যে, তাকে ঘিরে ধরে রাজ্যের আনুষ্ঠানিকতা। এই আনুষ্ঠানিকতায় এসএসএফের একজন সদস্য মন্ত্রীর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আনুষ্ঠানিকতার বৃত্তে বন্দি প্রধানমন্ত্রী নদীতে নাইতে পারেন না, গাছে উঠে পেয়ারা পেড়ে খেতে পারেন না অথবা রাস্তায় চকচকে আধুলি পড়ে থাকতে দেখলে সেটা কুড়িয়ে দিতে পারেন না কোনো ফকিরকে। আনুষ্ঠানিকতায় পরিব্যাপ্ত প্রধানমন্ত্রীকে অনানুষ্ঠানিকভাবে কিছু সাহসযুক্ত কথা বলার লোক তো দেখি না। শেষমেশ ভরসা সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা পুতুল। তারা যদি পারেন! আফটার অল, তিনি তাদের মা।

মাহবুব কামাল : সাংবাদিক

[email protected]






« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: [email protected], বার্তা বিভাগ: [email protected]