Thursday, 26 November, 2020, 12:54 PM
Home
এ দুর্ভোগের শেষ কোথায়?
আইপোর্ট নিউজ:
Published : Wednesday, 19 April, 2017 at 10:29 AM, Count : 89
রাস্তায় গাড়ি নামানোর পর গাড়ির চালক ও হেলপার রাস্তাকে মনে করেন নিজেদের সম্পদ, তাই এই সম্পদ দখলের প্রতিযোগিতায় নেমে কে কার আগে যাবে এই প্রতিযোগিতা শুরু করে।  এর অনিবার্য পরিনতি নিয়ে ইত্তেফাকে মো. সোয়েব মেজবাহউদ্দিনের লেখা।

সড়ক দুর্ঘটনা আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত শত শত লোকের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। পত্রিকার পাতায় এই খবর দেখতে দেখতে বিষয়টি মানুষের সহনীয় ব্যাপার হয়ে উঠেছে। অদক্ষ চালকের কারণে এই সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হলেও কোনো মামলা করে লাভ হচ্ছে না। কেননা মিশুক মনির সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাবার পর চালকের বিরুদ্ধে মামলা হয়। সে মামলায় চালকের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন রায় হওয়ার পর দেশে চালকেরা ধর্মঘট করে। আর এই ধর্মঘটের কারণে জনগণের দুর্ভোগের সৃষ্টি হওয়ার ফলে রায় পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে সারাদেশে ১২৪ জন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় এবং ১৮৪ জন আহত হয়।

‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন তার স্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাবার পর থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন প্রকার পরামর্শ দিয়ে আসছেন। কিন্তু চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি এই প্রবাদ বাক্যের মতো কেউ কোনো প্রকার পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। কেননা খোদ রাজধানী ঢাকা শহরে বিভিন্ন রুটে চলছে লাইসেন্স বিহীন এবং চলাচলের অযোগ্য যানবাহন। আর এই যানবাহন চালাচ্ছে অনভিজ্ঞ লাইসেন্স বিহীন চালক। শুধুমাত্র ট্রাফিককে নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে সাধারণ জনগণের চোখের সামনে চলাচলের অযোগ্য যানবাহন চলছে। কেউ কিছু বলতেও পারছে না করতেও পারছে না। কারণ, এই বাস ও ট্রাক শ্রমিকদের পেছনে আছে সরকারের বড় এক শক্তি। তাই প্রতিনিয়ত সাধারণ যাত্রীদের মৃত্যুর পাল্লা ভারী হচ্ছে। এই সড়ক দুর্ঘটনায় যারা মারা যায় এবং আহত হয় তাদের পরিবার ও পরিজন যে কী প্রকার দুর্বিষহ জীবন-যাপন করে তা আর ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

নিটল মটরস্-এর চেয়ারম্যান আব্দুল মাতলুব আহমেদের কথায় বলতে হয়, ‘একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না’। তাই সাবধানে গাড়ি চালান। কিন্তু কোনো চালক কি শুনে এই কথা। রাস্তায় গাড়ি নামানোর পর গাড়ির চালক ও হেলপার রাস্তাকে মনে করেন নিজেদের সম্পদ, তাই এই সম্পদ দখলের প্রতিযোগিতায় নেমে কে কার আগে যাবে এই প্রতিযোগিতা শুরু করে। আর এতেই ঘটে অনেক দুর্ঘটনা। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইলে কথা বলা নিষেধ এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এই কথা জানার পরও চালকরা গাড়ি চালানোর সময় মোবাইলে কথা বলে। বাধা দিলে যাত্রীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। একটি সূত্র থেকে জানা যায়, মফস্বল এলাকার বাস মালিক সমিতি সড়ক দুর্ঘটনার ব্যাপারে একটি চার্ট তৈরি করেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা গলে জনপ্রতি ৩০-৫০ হাজার টাকা, গরু মারা গেলে ২ হাজার টাকা, ছাগল মারা গেলে ৫০০-১০০০ টাকা প্রদান করে, যাতে কোনো প্রকার মামলা না হয়। কেউ মামলা করতে গেলে তাকে উল্টো মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়। সাধারণ জনগণ জানে না এই দুর্ভোগের শেষ কোথায়?

লেখক :গবেষক









« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: [email protected], বার্তা বিভাগ: [email protected]