Tuesday, 4 August, 2020, 3:10 PM
Home
সেইসব শহীদের কথাও ভাবুন
আইপোর্ট নিউজ:
Published : Monday, 17 April, 2017 at 8:01 PM, Count : 79
রংপুর জেলার বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা কারমাইকেল কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি মুজিব বাহিনীর নেতা শহীদ খন্দকার মুখতার ইলাহীর নাম যখন রংপুরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে দেখি না, ক্যাপ্টেন তমিজ উদ্দিন বীরবিক্রমের নাম হাসনাবাদ গণকবরের তালিকায় দেখি না তখন হতাশ হই। সমকালের পাতায় সাবেক রাকসু নেতা আইনজীবী এস.এম. আব্রাহাম লিংকনের লেখায় সে আক্ষেপই ঝরেছে।

একাত্তরে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের অভিধা ও মর্যাদার বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া উচিত। বঙ্গবন্ধুকন্যা ১৯৯৬ সালে প্রথমবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেই মৃত্যুর পর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রাষ্ট্রীয় সালাম ও গান স্যালুটের ব্যবস্থা করেন। এটি সত্যিই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি রাষ্ট্রের ন্যায্য প্রতিদান। এ জন্য শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে চিরকাল শ্রদ্ধার মানুষ হয়ে থাকবেন। তাদের জন্য চাকরি কোটা বাতিলের বিরুদ্ধে এখনও তিনিই সোচ্চার এবং তার কারণেই এটি এখনও বলবৎ আছে। তাদের জন্য মাসিক ভাতা ১০ হাজার টাকা একজন দারিদ্র্যপীড়িত মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদাকর জীবনের জন্য যথেষ্ট সহায়। এর বাইরেও তিনি বাড়ি, জমি, চিকিৎসা সেবাসহ অনেক কিছুই করছেন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য। এগুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসার পরিচায়ক। এই যে সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি দেখছি তা শুধু তালিকাভুক্ত শহীদ ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধা বা তার পরিবারের সদস্যদের জন্য।

মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত যাত্রা ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে_ এটি সবার জানা। এর আগে মার্চের ২ তারিখ ছাত্রদের পতাকা উত্তোলন, পরে ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনে সেই পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সেটির প্রতি বঙ্গবন্ধুর প্রকাশ্য স্বীকৃতি এগুলোও মুক্তিসংগ্রামের কাজ। মার্চের ৩ তারিখ রংপুরের স্কুলছাত্র শংকু সমাজদার থেকে শুরু করে সারাদেশে বিপুলসংখ্যক মুক্তিকামী বাঙালির আত্মদান। ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুর বাসভবন পাহারা দিতে গিয়ে হত্যার শিকার হন কুড়িগ্রামের সন্তান ধানমণ্ডির আকরামউল্লাহ খোকন, ওই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ হলসহ সমগ্র ঢাকা শহরে যত বাঙালি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এর সংখ্যা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। এসব শহীদের রাষ্ট্রের কাছে স্ট্যাটাস কী? কী তাদের মর্যাদা? দেশ স্বাধীনের পর শহীদ বুদ্ধিজীবীদের একটা তালিকা হয়েছিল। এতে তাদের প্রতি রাষ্ট্রের সম্মান কিছুটা হলেও বোঝা যায়। শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের কাউকে চাকরি, কাউকে গৃহ বা জমি দিয়ে বঙ্গবন্ধু সরকার কিছুটা দায়িত্ব পালন করেছিলেন। যা পঁচাত্তরের পর শুধু স্লথ নয় বরং বলতে পারি বন্ধ হয়েছিল। কিন্তু বাদবাকি শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রের অবস্থান পরিষ্কার নয়।
আমরা অবগত আছি মুক্তিযুদ্ধে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত কোনো সরকার ছিল না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে একটা রাষ্ট্র কাঠামোর স্বপ্ন নিয়েই লড়াকু লাখো বাঙালি পাকিস্তানিদের হাতে নিহত হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের সূচনায় কেউ নাম লিখিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেননি। পরিস্থিতি একজন বাঙালিকে ঘরের বাইরে এনেছিল। পথে নেমেই শহীদ হয়েছেন। অথচ সেই তিনি তালিকায় নাম না থাকার কারণে মুক্তিযোদ্ধার শ্রেণিভুক্ত নন। তিনি কেন মুক্তিযোদ্ধা হবেন না? যিনি তালিকাভুক্ত হয়ে তেজপুরে, দেরাদুনে বা দার্জিলিংয়ে ট্রেনিং নিতে নিতে যুদ্ধ শেষ হয়েছে তিনি মুক্তিযোদ্ধা। আর যিনি ট্রেনিং ছাড়াই যুদ্ধ করতে করতে জীবন দিলেন তার নামটি মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় যুক্ত নেই, সেটি অসঙ্গত নয় কি? পিলখানা বা রাজারবাগে যারা প্রতিরোধ যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন তারা না হয় নিজ নিজ বাহিনীর প্রচেষ্টায় তালিকায় আছেন কিন্তু বাদবাকি যারা পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন তাদের প্রশ্নে এখনও রাষ্ট্র নীরব। তারা কোন তালিকায় আছেন কেউ বলতে পারে না। অথচ ইতিহাসের প্রয়োজনে সেটি থাকা উচিত। একাত্তরে যুদ্ধে যোগ দিতে কিংবা শরণার্থী শিবিরে যাওয়ার পথে নৌকা করে ভয়াল নদী পার হতে গিয়ে যাদের সলিল সমাধি হয়েছে তারা কী? একাত্তরের শরণার্থী শিবিরে লাখো বাঙালি খাদ্যাভাবে রোগে-শোকে মৃত্যুবরণ করেছেন, তারা কী অভিধা পাবেন? শরণার্থী শিবিরে যারা মৃত্যুবরণ করেন তাদেরও একটা তালিকা প্রয়োজন। পেশাগত জীবনের বাইরে রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে মনে হয়েছে_ এখনও খুঁজলে হাজার হাজার নারী-পুরুষ পাওয়া যাবে যাদের শরীরে পাকিস্তানিদের নিক্ষেপিত গুলির দাগ আছে। কারও কারও শরীরে এখনও গুলি আছে। তাদের কেউ কেউ এখনও বেঁচে আছেন বা ছিলেন। তাদের বিষয়ে রাষ্ট্রের কী বিবেচনা? ২৬ মার্চের আগে প্রতিরোধ যুদ্ধে যারা অংশ নিয়ে শহীদ হয়েছেন বা বেঁচে আছেন তারা রাষ্ট্র কর্তৃক সম্মান পাওয়ার যোগ্য কি-না। এগুলো আজ বিবেচনার দাবি রাখে।
বৃহত্তর রংপুরের হাতিয়া গণহত্যা, ঝাড়ূয়ার বিল গণহত্যা, আইরখামার গণহত্যা, লালমনিরহাট গণহত্যা। ২৮ মার্চ পাকিস্তানি সেনাদের খতম করতে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও অভিযানে নিহত বাঙালিদের বিষয়ে রাষ্ট্র কী বলবে? তারা কি শুধুই শহীদ? সৈয়দপুর গোলাহাট ট্রেনে গণহত্যার শিকার ৩৩৮ জন শহীদের অবস্থান কী? আইরখামারে শহীদ খন্দকার মুখতার ইলাহির সঙ্গে বিপুলসংখ্যক বাঙালি শহীদের কী হবে? রংপুর জেলার বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা কারমাইকেল কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি মুজিব বাহিনীর নেতা শহীদ খন্দকার মুখতার ইলাহীর নাম যখন রংপুরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে দেখি না, ক্যাপ্টেন তমিজ উদ্দিন বীরবিক্রমের নাম হাসনাবাদ গণকবরের তালিকায় দেখি না তখন হতাশ হই।
সব শহীদ পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের একটা ভূমিকা থাকা জরুরি। তাদের প্রতি কোনো অবদান বা অনুদান তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান ও মর্যাদাকে বিনষ্ট বা ম্লান করবে না। বঙ্গবন্ধু তার জীবদ্দশায় অনেক শহীদ পরিবারকে পত্র দিয়ে, কাউকে তৎকালীন সময়ে রাষ্ট্রের সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহযোগিতার কাজ শুরু করেছিলেন। ঘাতকের বুলেট সেটি শেষ করতে দেয়নি। আমাদের সেই রাষ্ট্র আজ পৃথিবীকে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্ন দেখে। আমি মনে করি বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিতার সেই অসমাপ্ত কাজটি শেষ করতে সব শহীদ পরিবারকে একটা পত্র দিয়ে হলেও স্বীকৃতির আওতায় আনতে পারেন। তাদের মর্যাদা বা কোনো বৈষয়িক সহযোগিতার বিষয়টি যদি বর্তমান পর্যায়ে সম্ভব নাও হয় অন্তত শহীদের স্বীকৃতিপত্রটুকুর ব্যবস্থা করে যাওয়া উচিত হবে।
[email protected]









« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: [email protected], বার্তা বিভাগ: [email protected]