Tuesday, 4 August, 2020, 2:45 PM
Home
প্রকৌশলীসহ ৪ জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
জিহাদের মৃত্যু
আইপোর্ট নিউজ:
Published : Sunday, 26 February, 2017 at 3:37 PM, Count : 213
রাজধানীর শাহজাহানপুরে রেলওয়ে মাঠে পরিত্যক্ত পানির পাম্পের পাইপে পড়ে শিশু জিহাদের (৪) মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চারজনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া তাদের ২ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আসামিদের আরো দুই বছর কারাভোগ করতে হবে।

রোববার দুপুরে ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসআর হাউজের মালিক মো. শফিকুল ইসলাম ওরফে আব্দুস সালাম, কমলাপুর রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার জাফর আহমেদ শাকি।

এ ছাড়া অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় কমলাপুর রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) দীপক কুমার ভৌমিক এবং সহকারী প্রকৌশলী-২ মো. সাইফুল ইসলামকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

রায়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর শওকত আলম সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে জিহাদের বাবা নাসির উদ্দিন ফকির রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, ছয় আসামির প্রত্যেকেই ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। চার আসামি যদি সাজা পায়, তাহলে দুইজন খালাস পায় কীভাবে। এই দুই আসামির বিরুদ্ধে আমি উচ্চ আদালতে যাব।

এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আবদুস সালামের আইনজীবী শাহিনুর রহমান বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নয়। রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাব।

এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি আসামিদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য এদিন ঠিক করেন আদালত।

মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষে নিহতের বাবা বাদী নাসির উদ্দিন ফকিরসহ ১১ জন সাক্ষ্য দেন। এরপর আসামিপক্ষে রেলওয়ের ঢাকার বিভাগীয় প্রকৗশলী হামিদুর রহমান ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মাসুদ করিম এবং রেলওয়ের পরিচালক (প্রকৌশল) আব্দুল হক সাফাই সাক্ষ্য প্রদান করেন।

২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর বেলা ৩টায় শিশু জিহাদ পাইপের মধ্যে পড়ে গেলে মিডিয়ার মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। রাতভর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হয়। পরদিন দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান শিশুটি পাইপে নেই বলে ঘোষণা দিয়ে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করেন। এরপর শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ করেন জনৈক মজিদ, লিটু ও আনোয়ার। তাদের তৈরি একটি ক্যাচারের মাধ্যমে জিহাদকে টেনে তোলা হয়।

ওই ঘটনায় জিহাদের বাবা নাসির উদ্দিন ফকির ২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর একটি মামলা দায়ের করেন। জিহাদের বাবার করা মামলায় চার মাসের মধ্যে ২০১৫ সালের ৭ এপ্রিল শাহজাহানপুর থানার এসআই আবু জাফর জাহাঙ্গীর আলম এবং শফিকুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

কিন্তু ওই ওই চার্জশিটের বিরুদ্ধে অপর চারজনও দায়ী বলে নারাজি দাখিল করলে ২০১৫ সালের ৪ জুন সিএমএম আদালত ডিবি পুলিশকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলাটি অধিকতর তদন্তের পর আসামিদের অভিযুক্ত করে ডিবি পুলিশের এসআই মিজানুর রহমান গত বছর ৩১ মার্চ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর গত বছরের ৪ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।








« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: [email protected], বার্তা বিভাগ: [email protected]